Alhashorহাদীস সম্ভার
দা

আবু দাউদ শরীফ - হাদীস নং ২,৬০৪

প্রায় ৩ মিনিট · ৩৮৮ শব্দ

তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন ক্ষুদ্র সেনাদল অথবা বিরাট সাজোয়া বাহিনীর উপর কাউকে আমীর (সেনাপতি) নিযুক্ত করে পাঠাতেন, তখন আমীরকে লক্ষ্য করে উপদেশ দিতেন, যেন সে নিজে আল্লাহকে ভয় করে চলে আর তাঁর সঙ্গী মুসলিম সৈন্যদের প্রতি নেক নজর রাখে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলতেনঃ যখন তুমি তোমার মুশরিক শত্রুদের সাক্ষাত পাও তখন তাদেরকে তিনটি বিষয়ের যে কোন একটি গ্রহণ করার জন্য আহবান জানাবে। আর যে কোন একটি গ্রহণ করলে তুমি তাতে সায় দিবে এবং তাদের উপর আত্রমণ চালানো হতে বিরত থাকবে। ১. তাদেরকে ইসলামের আহবান জানাবে। যদি এতে সাড়া দেয়, তুমি মেনে নিবে আর তাদের ওপর আক্রমণ চালানো হতে বিরত থাকবে। তারপর তাদেরকে নিজ দেশে ছেড়ে মুহাজিরদের দেশে অর্থাৎ মদীনায় হিজরত করার আহবান জানাবে আর তাদেরকে অবহিত করে দিবে যে, হিজরত করার পর মুহাজিরগণ যে সকল সুবিধা ভোগ করেন, তারাও সে সকল সুবিধা ভোগ করবে। আর জিহাদের যে সকল দায়-দায়িত্ব মুহাজিরদের ওপর বর্তায়, তাদের ওপরও তা সমভাবে বর্তাবে। তারা যদি এ প্রস্তাবে অস্বীকৃতি জানায় আর নিজ দেশেই অবস্থান করতে চায় তবে তাদেরকে জানিয়ে দিবে যে, তাদেরকে আল্লাহ আদেশ-নিষেধ ও বিধি- বিধান মেনে চলতে হবে যেরূপে মু’মিনগণ মেনে থাকেন। তাদেরকে আরবের সাধারণ মুসলিমের মতো জীবনযাপন করতে হবে। তারা যেমনি যুদ্ধলব্ধ সম্পদের অংশ লাভ করে না, এরাও তেমনি এর কোন ভাগ পাবে না, যে পর্যন্ত মুজাহিদগণের সাথে প্রত্যক্ষভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করে। ২. যদি তারা ইসলাম গ্রহণ না করে তবে তাদের নিরাপত্তার জন্য জিয্ইয়া প্রদানের প্রস্তাব দিবে। এতে রাযী হলে তুমি মেনে নিবে এবং তাদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হবে না। ৩. যদি তারা জিয্‌ইয়া দিতে অস্বীকার করে তবে তাদের ওপর আক্রমন চালাবে। আক্রমনকালে যখন কোন শত্রুর দূর্গ অবরোধ করবে আর তারা তাদের ব্যাপারে আল্লাহ্ ও রাসূলের নির্দেশ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রস্তাব দিয়ে দুর্গ হতে অবতরণের ইচ্ছা প্রকাশ করবে, তখন তুমি আল্লাহ্‌ অথবা রাসূলের নির্দেশের আশায় তাদের প্রস্তাবে সাড়া দিবে না বরং তোমার নিজ সিদ্ধান্ত তাদেরকে মেনে নিতে বাধ্য করবে এবং নিজেই সুবিধামত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। কারণ, তাদের ব্যাপারে আল্লাহর নির্দেশ কী হবে তা জানা নেই, সুতরাং সে অনিশ্চিয়তার ঝুঁকি গ্রহণ করতে নেই। তাদের ব্যাপারে পরে তোমার ইচ্ছানুযায়ী ফয়সালা গ্রহণ করবে। অত্র হাদীসের রাবী সুফিইয়ান বলেন, তাঁর শায়খ আলকামা বলেছেন, তিনি এ হাদীসটির বিশুদ্ধতা সম্পর্কে মুহাদ্দিস মুকাতিল ইবন হিব্বানকে জিজ্ঞাসা করায় তিনি অপর সনদে নু’মান ইবন মুকাররিন কর্তৃক নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে সুলায়মান ইবন বুরায়দা এর উপরোক্ত বর্ণনা অনুযায়ী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

ছবি বানান