Alhashorহাদীস সম্ভার
দা

আবু দাউদ শরীফ - হাদীস নং ৩,০৪৪

প্রায় ৬ মিনিট · ৮৩০ শব্দ

তিনি বলেনঃ একদা আমার সঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুআয্‌যিন বিলাল (রাঃ) এর হালব শহরে দেখা হয়। তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি, হে বিলাল! আপনি আমার কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভরণ-পোষণের ব্যয় নির্বাহের ব্যবস্থা কিরূপ ছিল, তা বর্ণনা করুন। তখন তিনি বলেনঃ যখন থেকে আল্লাহ্‌ তাঁকে রাসূল হিসাবে প্রেরণ করেন, তখন থেকে তাঁর ইনতিকালের সময় পর্যন্ত তাঁর কাজ-কর্মের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব আমার উপরই ন্যস্ত ছিল। যখনই তাঁর নিকট মুসলিম আসতেন এবং তিনি তাকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখতেন, তখন আমাকে তার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিতেন। তখন আমি কর্য নিয়ে তার জন্য চাদর খরিদ করে তাকে পরাতাম এবং তাকে খানাও খাওয়াতাম। এমতাবস্থায় একদা জনৈক মুশরিক আমার সঙ্গে সাক্ষাত করে বলে যে, হে বিলাল! আমার কাছে অনেক ধন-দওলত আছে। কাজেই তুমি আমি ব্যতীত আর কারো থেকে ধার নিও না। তখন আমি এরূপ করতে থাকি। এ অবস্থায় একদা আমি উযূ করে যখন আযান দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছি, তখন আমি দেখতে পাই যে, সে মুশরিক লোকটি একদল ব্যবসায়ী সমভিব্যাহারে আমার দিকে আসছে। সে আমাকে দেখেই বলে উঠলঃ হে হাবশী! আমি বললামঃ বলুন, আমি তো হাযির। সে সময় সে উত্তেজিত হয়ে আমাকে গালমন্দ করতে লাগল এবং বললঃ তোমার কি জানা আছে, মাসের আর কতদিন বাকী আছে? তখন আমি বললামঃ মাস তো প্রায় শেষ। তখন সে বলেঃ তোমার মাস পূর্ণ হতে আর মাত্র চার দিন বাকী আছে। আমি তোমার নিকট হতে আমার পাওনা টাকা আদায় করে ছাড়ব, আর আমি তোমাকে তোমার পূর্বাবস্থায় নিয়ে ছাড়ব, যেরূপ তুমি আগে বকরীর পাল চরাতে। বিলাল (রাঃ) বলেনঃ তার এরূপ কথাবার্তায় আমি মর্মাহত হই, এরূপ ক্ষেত্রে মানুষের যেমন হয়ে থাকে। অবশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈশার সালাত আদায় শেষে যখন স্বগৃহে প্রত্যাবর্তন করলেন, তখন আমি তাঁর নিকট উপস্থিত হওয়ার জন্য অনুমত চাইলাম। তখন তিনি আমাকে তাঁর খিদ্‌মতে হাযির হওয়ার জন্য অনুমতি দেন। আমি তাঁর নিকট আরয করিঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, আমি যে মুশরিক ব্যক্তির নিকট হতে ধার নিতাম, সে আমাকে এরূপ এরূপ কথা বলেছে। এখন তো আপনার নিকট এমন কোন ধন-সম্পদ নেই যা দিয়ে আপনি আমার করয পরিশোধ করতে পারেন। আর আমার কাছেও কিছু নেই; ওদিকে সে তো আমাকে বেইযযত করতে চায়। সুতরাং আপনি আমাকে অনুমতি দিন, যাতে আমি পালিয়ে গিয়ে ঐ গোত্রের কোন লোকের নিকট আশ্রয় গ্রহণ করতে পারি, যারা মুসলিম হয়েছে। আর আমি ততদিন এ অবস্থায় থাকব, যতদিন না আল্লাহ্‌ তা’আলা তাঁর রাসূলের জন্য এ পরিমাণ মালের সংস্থান করে দেন, যা দিয়ে আমি আমার করয পরিশোধ করতে পারি। একথা বলে আমি আমার ঘরে ফিরে আসি এবং আমার তরবারি, মোজা, জুতা এবং ঢাল আমার শিয়রে রাখি (যাতে অতি ভোরে আমি চলে যেতে পারি)। এমতাবস্থায় যখন আমি অতি প্রত্যুষে পলায়ন করার জন্য তৈরী হলাম, তখন হঠাৎ দেখতে পাই যে, এক ব্যক্তি দৌড়ে আমার কাছে এসে বললঃ হে বিলাল! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে ডাকছেন। তখন আমি তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে দেখতে পাই যে, পিঠে মাল বোঝাই চারটি উট বসে আছে। এরপর আমি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চাইলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ (হে বিলাল!) তুমি সুসংবাদ গ্রহণ কর। তোমার করয পরিশোধের জন্য আল্লাহ্‌ তা’আলা এ মাল পাঠিয়ে দিয়েছেন। এরপর তিনি আরো বলেনঃ তুমি কি দেখছ না যে, চারটি মাল-বোঝাই উট বসে আছে? তখন আমি বলিঃ হ্যাঁ দেখছি। এরপর তিনি বলেনঃ এ পশুগুলো এবং এদের পিঠে যে মালামাল আছে, তা সবই তোমার। এতে কাপড় এবং খাদ্যশস্য আছে, যা ফিদাকের বিশিষ্ট ধনী নেতা হাদিয়া-স্বরূপ আমার জন্য পাঠিয়েছে। সুতরাং তুমি এসব বুঝে নাও এবং তোমার যাবতীয় দেনা পরিশোধ কর। বিলাল (রাঃ) বলেনঃ তখন আমি এরূপ করি। অতঃপর পূর্ণ হাদীছ বর্ণনা প্রসঙ্গে বিলাল (রাঃ) বলেনঃ পরে আমি মসজিদে গিয়ে দেখতে পাই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে বসে আছেন। তখন আমি তাকে সালাম করলে তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি যে সম্পদ পেয়েছ তা কি করেছ? তখন আমি বলিঃ মহান আল্লাহ্‌ ঐ সমস্ত দেনাই পরিশোধ করে দিয়েছেন, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর ছিল। বস্তুত ঐ দেনার আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ ঐ মাল হতে কিছু কি অবশিষ্ট আছে? তখন আমি বলিঃ হ্যাঁ, কিছু মাল অবশিষ্ট আছে। তখন তিনি বলেনঃ আমি এও চাই যে, তুমি অবশিষ্ট মাল হতেও আমাকে চিন্তামুক্ত করবে (অর্থাৎ তা অতি সত্তর বিতরণ করে দেবে)। কেননা, যতক্ষণ না তুমি আমাকে তা হতে চিন্তামুক্ত করবে, ততক্ষণ আমি আমার স্বজনদের কারো কাছে ফিরে যাব না। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার সালাত আদায় শেষে আমাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ অবশিষ্ট মাল কি করেছ? তখন আমি বলিঃ তা আমার কাছেই আছে, তা গ্রহণের জন্য কেউ-ই আমার নিকট আসেনি। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে রাত মসজিদেই কাটালেন। এ হাদীছ বর্ণনা প্রসঙ্গে বিলাল (রাঃ) আরো বলেনঃ এরপর দ্বিতীয় দিন ইশার সালাত আদায় শেষে তিনি আমাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ যে মাল অবশিষ্ট ছিল, তুমি তা কি করেছ? তখন আমি বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ্‌ তা’আলা ঐ মাল হতে আপনাকে চিন্তামুক্ত করেছেন। একথা শুনে তিনি তাকবীর পাঠ করলেন এবং আল্লাহ্‌র প্রশংসা করলেন। এ ভয়ে যেন এরূপ না হয় যে, ঐ মাল তাঁর নিকট থাকে এবং তিনি ইনতিকাল করেন। এরপর তিনি তাঁর গৃহে ফিরে যান এবং আমিও তাঁর পশ্চাতে গমন করি। পরে তিনি তাঁর প্রত্যেক স্ত্রীকে আলাদাভাবে সালাম করেন এবং পরিশেষে নিজের বিশ্রামাগারে প্রবেশ করেন। এ-ই ছিল তার ব্যয় নির্বাহের ঘটনা, যে সম্পর্কে তুমি আমাকে জিজ্ঞাসা করেছ।

ছবি বানান