Alhashorহাদীস সম্ভার
দা

আবু দাউদ শরীফ - হাদীস নং ৩,১৮০

প্রায় ৪ মিনিট · ৫৬১ শব্দ

তিনি বলেনঃ একদা আমি সিক্কাতুল মিওবাদ নামক স্থানে ছিলাম। এ সময় সেখান দিয়ে একটি জানাযা (লাশ) অতিক্রম করছিল, যার সাথে অনেক লোক ছিল। লোকেরা বলাবলি করছিলঃ এটা আবদুল্লাহ ইবন উমার (রাঃ)-এর জানাযা। তখন আমিও তাদের অনুসরণ করি। এ সময় আমি এমন এক ব্যক্তিকে দেখতে পাই, যিনি পাতলা চাদর মুড়ি দিয়ে একটি ছোট মুখ বিশিষ্ট অশ্বে সওয়ার ছিলেন। আর রোদের তাপ থেকে বাঁচার জন্য তাঁর মাথার উপর একখণ্ড কাপড়ও ছিল। তাঁকে দেখে আমি জিজ্ঞাসা করিঃ ইনি কোন জমিদার? লোকেরা বলেঃ ইনি আনাস ইবন মালিক (রাঃ)। অতঃপর যখন জানাযা (লাশ) রাখা হয়, তখন আনাস (রাঃ) দাঁড়ান এবং জানাযার নামায পড়ান। এ সময় আমি তাঁর পেছনে ছিলাম এবং তাঁর ও আমার মাঝে আর কোন অন্তরায় ছিল না। তিনি তাঁর (মৃত ব্যক্তির) মাথা বরাবর দাঁড়ান এবং চার তাকবীরে নামায শেষ করেন, যা অধিক দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্ত ছিল না। অতঃপর তিনি বসার জন্য গমন করেন। তখন লোকেরা তাঁকে বলেঃ হে আবূ হামযা! এটি একটি আনসার মহিলার জানাযা। তখন তারা সেটি নিকটে নিয়ে আসে এবং সেটি সবুজ গিলাফে ঢাকা ছিল। তখন তিনি [আনাস (রাঃ)] তাঁর কোমর বরাবর খাড়া হয়ে ঐরূপে জানাযা নামায আদায় করেন, যেরূপ তিনি পুরুষ লোকটির নামায পড়িয়েছিলেন। অতঃপর তিনি উপবেশন করেন। তখন আলা ইবন যিয়াদ তাঁকে জিজ্ঞাসা করেনঃ হে আবূ হামযা! আপনি যেভাবে জানাযার নামায আদায় করলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি আপনার মত করে সালাতুল-জানাযা আদায় করতেন? তিনি কি চার তাকবীর বলতেন এবং পুরুষের জানাযার মাথা বরাবর ও স্ত্রীলোকদের জানাযার কোমর বরাবর দণ্ডায়মান হতেন? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। অতঃপর তিনি (আলা) বলেনঃ হে আবূ হামযা! আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে জিহাদে শরীক হয়েছিলেন? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। আমি তার সঙ্গে হুনায়নের যুদ্ধে শরীক হয়েছিলাম। এ সময় মুশরিকরা (তাদের দুর্গ হতে) বেরিয়ে এসে আমাদের উপর (প্রচণ্ড) হামলা করে। ফলে আমরা আমাদের ঘোড়াকে আমাদের পেছনে দেখতে পাই। আর মুশরিকদের মাঝে এমন এক ব্যক্তি ছিল, যে আমাদের উপর (তীব্র) হামলা করেছিল এবং তরবারির আঘাতে আমাদের ক্ষত-বিক্ষত করছিল। অবশেষে আল্লাহ্‌ তাদের পরাজিত করেন। তিনি তাদের নিয়ে আসেন এবং তারা এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ইসলামের উপর বায়’আত গ্রহণ করতে থাকে। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জনৈক সাহাবী এরূপ মানত করেন যে, সে দিন যে ব্যক্তি আমাদের তরবারির আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত করেছিল, আল্লাহ্‌ যদি তাকে এনে দেন, তবে আমি তার শিরশ্ছেদ করব। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ থাকেন। অতঃপর সে ব্যক্তিকে আনা হয়। সে ব্যক্তি যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখে, তখন বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আল্লাহ্‌র কাছে তাওবা করেছি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বায়’আত করা হতে বিরত থাকেন, যাতে অপর ব্যক্তি (সাহাবী) তাঁর মানত পুরা করার সুযোগ পায়। অপরপক্ষে সে সাহাবী এ অপেক্ষায় ছিল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে হত্যার নির্দেশ দিবেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দেখলেন যে, সে (সাহাবী) কিছুই করছে না, তখন তাকে বায়’আত করেন। তখন সে ব্যক্তি (সাহাবী) বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মানত কিরূপে পূর্ণ হবে? তিনি বলেনঃ আমি তাকে আজকের পূর্ব পর্যন্ত বায়’আত করাতে এ জন্য বিরত ছিলাম, যাতে তুমি তোমার মানত পুরা করতে পার। তখন সে (সাহাবী) বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমাকে কেন ইশারা করলেন না? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ইশারা করা নবীর শান নয়। রাবী আবূ গালিব বলেনঃ অতঃপর আমি লোকদের কাছে আনাস (রাঃ) মহিলার জানাযার নামায পড়বার সময় কেন তার কোমর বরাবর দাঁড়ালেন, এর কারণ জিজ্ঞাসা করি। তখন তারা আমাকে বলেনঃ প্রথম যুগে খাটিয়ার প্রচলন ছিল না, (যাতে মহিলাদের লাশ ঢেকে রাখা যেত)। এ জন্য ইমাম মহিলা জানাযার কোমর বরাবর দাঁড়াতেন, যাতে তা মুকতাদীদের দৃষ্টির আড়ালে থাকে।

ছবি বানান