আবু দাউদ শরীফ - হাদীস নং ৪,০৮৫
তিনি বলেনঃ একদা মিকদাম ইবন সা’দী কারাব (রাঃ), আমর ইবন আসওয়াদ ও কিনসিরীন বংশোদ্ভুত আসাদ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি একত্রে মুআবিয়া ইবন আবূ সুফিয়ান (রাঃ) এর নিকট যান। তখন মুআবিয়া (রাঃ) মিকদাম (রাঃ) কে বলেনঃ তুমি কি জান, হাসান ইবন আলী (রাঃ) ইনতিকাল করেছেন? তখন মিকদাম (রাঃ) ’’ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলায়হি রাজিউন’’ পড়েন। তখন জনৈক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেঃ আপনি কি এটা মসীবত মনে করেন? তিনি বলেনঃ আমি কেন একে মসীবত মনে করবো না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে (হাসান) কোলে নিয়ে বলতেনঃ হাসান আমার এবং হুসায়ন আলীর। তখন আসাদ গোত্রের লোকটি বলেঃ তিনি তো এক টুকরা অগ্নি-স্ফুলিংগ স্বরূপ ছিলেন, যাকে আল্লাহ নিবিয়ে দিয়েছেন। এরপর মিকদাম (রাঃ) বলেনঃ আজ আমি আপনাকে নারায ও অসন্তুষ্ট না করে ছাড়বো না। পরে তিনি বলেন, হে মুআবিয়া! যদি আমি সত্য বলি, তবে আপনি আমাকে মিথ্যাবাদী বলবেন। তখন মুআবিয়া (রাঃ) বলেন, আমি এরূপই করবো। মিকদাম (রাঃ) বলেনঃ আমি আপনাকে আল্লাহর নামের শপথ দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সোনার জিনিস ব্যবহারে নিষেধ করতে শুনেছেন? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। এরপর তিনি বলেনঃ আমি আপনাকে আল্লাহর নামের শপথ দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আপনি কি জানেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রেশমী-বস্ত্র ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। তারপর তিনি বলেনঃ আমি আপনাকে আল্লাহর নামের শপথ দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আপনি কি জানেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিংস্র জন্তুর চামড়া পরিধান করতে এবং তার উপর বসতে নিষেধ করেছেন? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। তখন মিকদাম (রাঃ) বলেনঃ হে মুআবিয়া! এ সবই তো আমি আপনার ঘরে দেখতে পাচ্ছি! মুআবিয়া (রাঃ) বলেনঃ আমি জানি, আমি তোমার হাত থেকে রেহাই পাব না। রাবী খালিদ (রহঃ) বলেনঃ এরপর মুআবিয়া (রাঃ) মিকদাম (রাঃ)-কে এত পরিমাণ ধন-সম্পদ প্রদানের নির্দেশ দেন, যা তাঁর অন্য সংগীদ্বয়ের জন্য দেননি এবং তাঁর পুত্রের জন্যও দুইশত দীনার প্রদান করেন। তখন মিকদাম (রাঃ) তাঁর সাথীদের মাঝে সব সম্পদ বন্টন করে দেন এবং আসাদ গোত্রের লোকটি কাউকে কিছু দেয়নি। এ খরব মুআবিয়া (রাঃ) এর কাছে পৌছলে, তিনি বলেনঃ মিকদাম , সে তো তার সম্পদকে উত্তমরূপে আগলে রাখে।