Alhashorহাদীস সম্ভার
দা

আবু দাউদ শরীফ - হাদীস নং ৪,৪৪২

প্রায় ৩ মিনিট · ৪০৬ শব্দ

মূসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) .... যিয়াদ ইবন সা’আদ ইবন যামীরা (রাঃ) তার পিতা এবং দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা উভয়ই হুনায়েনের যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলেন। রাবী ওয়াহাব (রহঃ)-এর সূত্রে বলেনঃ মুহাল্লাম ইবন জাছামা লায়ছী (রাঃ) আশজা গোত্রের এক ব্যক্তিকে ইসলামী যুগে হত্যা করেছিল। এটাই ছিল প্রথম দিয়াতের ঘটনা, যার ফায়সালা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেন। এরপর উয়ায়না আশাজ গোত্রের পক্ষে কথাবার্তা বলেন, আর তিনি ছিলেন গাতফান গোত্রের লোক এবং আকরা ইবন হাবিস (রাঃ) মুহাল্লাম গোত্রের পক্ষে কথাবার্তা বলেন, আর তিনি ছিলেন খুনদুফ গোত্রের লোক। কথাবার্তা চলাকালে ঝগড়া যখন প্রচণ্ডরূপ ধারণ করে, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে উয়ায়না! তুমি কি দিয়াত গ্রহণ করবে না? তখন উয়ায়না বলেনঃ আল্লাহ্‌র শপথ! আমি দিয়াত গ্রহণ করবো না; যতক্ষণ না তাদের স্ত্রীলোকেরা ঐরূপ শোকাতুরা হয়, যেরূপ আমাদের মহিলারা হয়েছে। এভাবে প্রচণ্ড বাকবিতণ্ডা চলতে থাকে এবং ঝগড়া যখন প্রচণ্ডরূপ ধারণ করে; তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার জিজ্ঞাসা করেনঃ হে উয়ায়ানা! তুমি কি দিয়াত গ্রহণ করবে না? তখন উয়ায়না (রাঃ) আগের মত জবাব প্রদান করে। এ সময় লায়ছ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি, যার নাম ছিল মুকায়তিল, যিনি স্বশস্ত্র অবস্থায় ঢালসহ সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তিনি দাঁড়িয়ে বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ ব্যক্তি ইসলামের প্রথম যুগে যা করেছে, তার উদাহারণ ঐ বকরীর পালের মত, যারা কোথাও পানি পান করাকালে, তাদের একটি কারাহত হলে বাকীরা ভয়ে পালিয়ে যায়। কাজেই, আজ এ ব্যক্তির নিকট হতে কিসাস না নিয়ে, যদি দিয়াত কবূল করা হয়, তবে ভবিষ্যতে আরো লোক নিহত হতে থাকবে, যা ইসলামী বিধানের পরিবর্তন স্বরূপ হবে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন এই নির্দেশ দেনঃ হত্যাকারী এখনই পঞ্চাশটি উট প্রদান করবে এবং বাকী পঞ্চাশটি উট মদীনায় ফিরে গিয়ে নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীকে দেবে। এ ঘটনা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন এক সফরে ঘটেছিল। মুহাল্লাম (রাঃ) ছিলেন দীর্ঘদেহী এবং উজ্জ্বল বর্ণবিশিষ্ট। তিনি এতক্ষণ লোকদের একপাশে বসেছিলেন। মুক্তির নির্দেশ গ্রাপ্তির পর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে এসে বসেন। এ সময় তাঁর দু’চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছিল। এরপর তিনি বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যে অপরাধ করেছি, তা আপনি জানেন। আমি মহান আল্লাহ্‌র কাছে তাওবা করছি। ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি মহান আল্লাহ্‌র নিকটে আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি কি ইসলামের প্রথম যুগে তোমার তরবারি দিয়ে তাকে হত্যা করনি? ইয়া আল্লাহ্‌! আপনি মুহাল্লামকে ক্ষমা করবেন না। তিনি উচ্চকন্ঠে এরূপ ঘোষণা দেন। রাবী আবূ সালামা (রহঃ) এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, এ কথা শুনে মুহাল্লাম তার চাদরের কোণা দিয়ে নিজের অশ্রু মুছতে থাকেন। রাবী ইবন ইসহাক বলেনঃ তার কাওমের লোকদের ধারণা ছিল, অবশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাল্লামের মাগফিরাতের জন্য দু’আ করেন।

ছবি বানান