বুখারী শরীফ - হাদীস নং ১,২৭২
وَقَالَ الْحَسَنُ وَشُرَيْحٌ وَإِبْرَاهِيمُ وَقَتَادَةُ إِذَا أَسْلَمَ أَحَدُهُمَا فَالْوَلَدُ مَعَ الْمُسْلِمِ. وَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا مَعَ أُمِّهِ مِنَ الْمُسْتَضْعَفِينَ، وَلَمْ يَكُنْ مَعَ أَبِيهِ عَلَى دِينِ قَوْمِهِ. وَقَالَ الإِسْلاَمُ يَعْلُو وَلاَ يُعْلَى হাসান, শুরাইহ্, ইব্রাহীম ও কাতাদা (রহঃ) বলেছেন, পিতামাতার কেউ ইসলাম গ্রহণ করলে সন্তান মুসলিম ব্যক্তির সঙ্গে থাকবে। ইবন আব্বাস (রাঃ) তাঁর মায়ের সাথে ’মুস্তায’আফীন’ (দুর্বল ও নির্যাতিত জামা’আত)-এর অন্তর্ভূক্ত ছিলেন তাঁকে তাঁর পিতা (আব্বাস) এর সাথে তার কাওমের (মুশরিকদের) ধর্মে গণ্য করা হত না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ ইসলাম বিজয়ী হয়, বিজিত হয় না। ১২৭২। আবদান (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, উমর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে একটি দলের অন্তর্ভূক্ত হয়ে ইবনু সাইয়াদ এর (বাড়ীর) দিকে গেলেন। তারা তাকে (ইবনু সাইয়াদকে) বনূ মাগালা দূর্গের পাশে অন্যান্য বালকদের সাথে খেলাধূলারত পেলেন। তখন ইবনু সাইয়াদ বালিগ হওয়ার নিকটবর্তী হয়েছিল। সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আগমণ অনুভব করার আগেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাত ধরে ফেললেন। তারপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি সাক্ষ্য দিচ্ছ যে, আমি আল্লাহর রাসূল? ইবনু সাইয়াদ তাঁর দিকে দৃষ্টি করে বলল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি উম্মীদের রাসূল। এরপর সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলল, আপনি কি সাক্ষ্য দিবেন যে, আমি আল্লাহর রাসূল? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ছেড়ে দিয়ে বললেনঃ আমি আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছি। তারপর তিনি তাকে ইবনু সাইয়াদকে) জিজ্ঞাসা করলেনঃ তুমি কি দেখে থাক? ইবনু সাইয়াদ বলল, আমার কাছে সত্যবাদী ও মিথ্যাবাদী আগমণ করে থাকে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেনঃ ব্যাপারটি তোমার কাছে বিভ্রান্তিকর করা হয়েছে। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ আমি একটি বিষয়ে তোমার থেকে (আমার মনের মধ্যে) গোপন রেখেছি। (বলতো সেটি কি?) ইবনু সাইয়াদ বলল, তা হচ্ছেالدُّخُّ “আদ্-দুখ্খু”। তখন তিনি ইরশাদ করলেনঃ তুমি লাঞ্ছিত হও! তুমি কখনো তোমার (জন্য নির্ধারিত) সীমা অতিক্রম করতে পারবে না। তখন উমর (রাঃ) বললেন, আমাকে অনুমতি দিন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেনঃ যদি সে সে-ই (অর্থাৎ মাসীহ্ দাজ্জাল) হয়ে থাকে, তা হলে তাকে কাবূ করার ক্ষমতা তোমাকে দেওয়া হবে না। আর যদি সে সে-ই (দাজ্জাল) না হয়, তা হলে তাকে হত্যা করার মধ্যে তোমর কোন কল্যাণ নেই। রাবী সালিম (রহঃ) বলেন, আমি ইবনু উমর (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) ঐ খেজুর বাগানের দিকে গমণ করলেন। যেখানে ইব্ন সাইয়াদ ছিল। ইবনু সাইয়াদ তাকে দেখে ফেলার আগেই ইবনু সাইয়াদের কিছু কথা তিনি শুনে নিতে চাচ্ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে একটি চাঁদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকতে দেখলেন। যার ভিতর থেকে তার গুনগুন আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল।* ইবনু সাইয়াদের মা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখতে পেল যে, তিনি খেজুর (গাছের) কান্ডের আড়ালে আত্মগোপন করে চলেছেন। সে তখন ইবনু সাইয়াদকে ডেকে বলল, ও সাফ! (এটি ইবনু সাইয়াদের ডাক) নাম। এই যে, মুহাম্মদ; তখন ইবনু সাইয়াদ লাফিয়ে উঠল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেনঃ সে (ইবনু সাইয়াদের মা) তাকে (যথাবস্থায়) থাকতে দিলে (ব্যাপারটি) স্পষ্ট হয়ে যেতো। শু’আইব (রহঃ) তাঁর হাদীসে فَرَفَصَهُ বলেন, এবং সন্দেহের সাথে বলেন, رَمْرَمَةٌ অথবা زَمْزَمَةٌ এবং উকাইল (রহঃ) বলেছন, رَمْرَمَةٌ আর মা’মার বলেছেন رَمْزَةٌ।