বুখারী শরীফ - হাদীস নং ২,৬১১
তিনি বলেন, আমার চাচা আনাস ইবনু নাযার (রাঃ) বদরের যুদ্ধের সময়ে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ’ইয়া রাসুলাল্লাহ! মুশরিকদের সঙ্গে আপনি প্রথম যে যুদ্ধ করেছেন, আমি সে সময়ে অনুপস্থিত ছিলাম। আল্লাহ যদি আমাকে মুশরিকদের বিরুদ্ধে কোন যুদ্ধে শরীক হওয়ার সুযোগ দেন, তাহলে অবশ্যই আল্লাহ দেখতে পাবেন যে, আমি কি করি।’ তারপর উহুদের যুদ্ধে মুসলিমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লে আনাস ইবনু নাযার (রাঃ) বলেছিলেন, ইয়া আল্লাহ! এরা অর্থাৎ তাঁর সাহাবীরা যা করেছেন, তাঁর সম্বন্ধে আপনার কাছে ওজর পেশ করছি এবং এরা অর্থাৎ মুশরিকরা যা করেছে তা থেকে নিজেকে সম্পর্কহীন বলে ঘোষণা করছি। তারপর তিনি এগিয়ে গেলেন, এবং সা’দ ইবনু মুয়াযের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাত হল। তিনি বললেন, হে সা’দ ইবনু মুয়ায, (আমার কাম্য)। নাযারের রবের কসম, উহুদের দিক থেকে আমি জান্নাতের সুগন্ধ পাচ্ছি। সা’দ (রাঃ) বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ, তিনি যা করেছেন, আমি তা করতে পারিনি, আনাস (রাঃ) বলেন, আমরা তাকে এমতাবস্থায় পেয়েছি যে, তাঁর দেহে আশিটিরও অধিক তলোয়ার, বর্শা ও তীরের জখম রয়েছে। আমরা তাকে নিহত অবস্থায় পেলাম। মুশরিকরা তাঁর দেহ বিকৃত করে ফেলেছিল। তাঁর বোন ছাড়া কেউ তাকে চিনতে পারেনি এবং তার বোন তার আঙ্গুলের ডগা দেখে চিনেছিল। আনাস (রাঃ) বলেন, আমাদের ধারনা কুরআনের এই আয়াতটিঃمِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ তাঁর এবং তাঁদের মত মুমিনদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। আনাস (রাঃ) আরো বলেন, রুবায়্যি নামক তাঁর এক বোন কোন এক মহিলার সামনের দাঁত ভেঙ্গে দিলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কিসাসের নির্দেশ দেন। আনাস (রাঃ) বললেন, ’ইয়া রাসুলাল্লাহ! সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে হক সহ পাঠিয়েছেন, তাঁর দাঁত ভাঙ্গা হবে না।’ পরবর্তীতে তাঁর বাদীপক্ষ কিসাসের পরিবর্তে ক্ষতিপূরন নিতে রাজি হলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’আল্লাহর এমন কিছু বান্দা আছেন, যারা কসম করলে আল্লাহ তা পূরণ করে দেন।’