Alhashorহাদীস সম্ভার
বু

বুখারী শরীফ - হাদীস নং ৩,৭৯৩

প্রায় ৪ মিনিট · ৪৬৬ শব্দ

তিনি বলেন, (মক্কার কাফেরদের) অত্যাচার চরম আকার ধারণ করলে আবূ বকর (রাঃ) মক্কা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে অনুমতি চাইলে তিনি তাঁকে বললেন, (আরো কিছুদিন) অবস্থান কর। তখন তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কি আশা করেন যে, আপনাকে অনুমতি দেওয়া হোক? তিনি বললেন, আমি তো তাই আশা করি। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আবূ বকর (রাঃ) এর জন্য অপেক্ষা করলেন। একদিন যোহরের সালাত (নামায/নামাজ) এর সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে তাঁকে [আবূ বকর (রাঃ)-কে] ডেকে বললেন, তোমার কাছে যারা আছে তাদেরকে সরিয়ে দাও। তখন আবূ বকর (রাঃ) বললেন, এরা তো আমার দু’মেয়ে (আয়িশা এবং আসমা)। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি জানো আমাকে চলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে? আবূ বকর (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কি আপনার সাথে যেতে পারবো? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ আমার সাথে যেতে পারবে। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার কাছে দু’টি উটনী আছে। এখান থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্যই এ দু’টিকে আমি প্রস্তুত করে রেখেছি। এরপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দুটি উটের একটি উট প্রদান করলেন। এ উটটি ছিল কান-নাক কাটা। তাঁরা উভয়ে সওয়ার হয়ে রওয়ানা হলেন এবং গারে সাওরে পৌঁছে সেখানে আত্মগোপন করলেন। আয়িশা (রাঃ)-এর বৈমাত্রেয় ভাই আমির ইবনু ফুহায়রা ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনু তুফায়ল ইবনু সাখরার গোলাম। আবূ বকর (রাঃ)-এর একটি দুধের গাভী ছিল। তিনি (আমির ইবনু ফুহায়রা) সেটিকে সন্ধ্যাবেলা চরাতে নিয়ে গিয়ে রাতের অন্ধকারে তাদের (মক্কার কাফেরদের) কাছে নিয়ে যেতেন এবং ভোরবেলা তাঁদের উভয়ের কাছে নিয়ে যেতেন। কোনো রাখালই এ বিষয়টি বুঝতে পারতো না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বকর (রাঃ) গারে সাওর থেকে বের হলে তিনিও তাদের সাথে রওয়ানা হলেন। তাঁরা মদিনা পৌঁছে যান। আমির ইবনু ফুহায়রা পরবর্তীকালে বি’রে মাউনার যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন। (অন্য সনদে) আবূ উসায়মা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হিশাম ইবনু উরওয়া (রহঃ) বলেন, আমার পিতা [উরওয়া (রাঃ)] আমাকে বলেছেন, রি’রে মাউনার যুদ্ধে শাহাদাত বরণকারীগণ শহীদ হলে আমর ইবনু উমাইয়া যামরী বন্দী হলেন। তাঁকে আমির ইবনু ফুহায়রার লাশ দেখিয়ে জিজ্ঞেস করল, এ ব্যাক্তি কে? আমর ইবনু উমাইয়া বললেন, ইনি হচ্ছেন আমির ইবনু ফুহায়রা। তখন সে (আমির ইবনু তুফায়ল) বলল, আমি দেখলাম, নিহত হওয়ার পর তার লাশ আকাশে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। এমনকি আমি তার লাশ আসমান যমীনের মাঝে দেখেছি। এরপর তা রেখে দেয়া হল (যমিনের উপর)। এ সংবাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পৌঁছলে তিনি সাহাবীগণকে তাদের শাহাদাতের সংবাদ জানিয়ে বললেন, তোমাদের সাথীদের হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যুর পূর্বে তারা তাদের প্রতিপালকের কাছে প্রার্থনা করে বলেছিলেন, হে আমার প্রতিপালক! আমরা আপনার প্রতি সন্তুষ্ট এবং আপনিও আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট- এ সংবাদ আমাদের ভাইদের কাছে পৌঁছে দিন। তাই মহান আল্লাহ তাঁদের এ সংবাদ মুসলিমদের কাছে পৌঁছিয়ে দিলেন। ঐ দিনের নিহতদের মধ্যে উরওয়া ইবনু আসমা ইবনু সাল্লাত (রাঃ)-ও ছিলেন। তাই এ নামেই উরওয়া (ইবনু যুবায়েরের) এর নামকরণ করা হয়েছে। আর মুনযির ইবনু আমত (রাঃ)-ও এ দিন শাহাদাত বরণ করেছিলেন। তাই এ নামেই মুনযির-এর নামকরণ করা হয়েছে।

ছবি বানান