মুসলিম শরীফ - হাদীস নং ১,০৫৬
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আগমন করলেন এবং মদিনার উচ্চ এলাকার এক মহল্লায় অবতরণ করলেন। যাকে আমর ইবনু আওফ গোত্রের মহল্লা বলা হয়। সেখানে তিনি চৌদ্দ রাত্রি অবস্থান করলেন। তারপর তিনি নাজ্জার গোত্রের নেতৃবৃন্দকে খবর পাঠালেন। তারা তরবারি ঝূলিয়ে এলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি যেন এখনও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখতে পাচ্ছি। তিনি তাঁর সাওয়ারীর ওপর এবং আবূ বকর (রাঃ) তাঁর পিছনে আর নাজ্জার গোত্রের নেতৃবৃন্দ তাঁর চতুর্দিকে ছিলেন। অবশেষে তিনি আবূ আইউবের গৃহ প্রাঙ্গণে অবতরণ করলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেখানেই সালাতের ওয়াক্ত হতো, সেখানেই সালাত আদায় করে নিতেন। বকরীর বাথানেও তিনি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। তারপর তাঁকে মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়। আনাস (রাঃ) বলেন, তখন নাজ্জার গোত্রের প্রধানদের খবর দিলেন। তারা এলো। তিনি তাদের বললেন, হে বানূ নাজ্জার! তোমাদের এই বাগান খানি আমার নিকট বিক্রি কর। তারা বললেন, আল্লাহর কসম! আমরা তার মূল্য একমাত্র আল্লাহর কাছেই চাই। আনাস (রাঃ) বলেন, ঐ বাগনটিতে কি ছিল তা আমি বলছি খেজুরগাছ, মুশরিকদের কবর ও পূরাতন ঘর দুয়ারের ভগ্নাবশেষ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদেশে খেজুর গাছ কেটে দেয়া হলো, কবরগুলো খুড়ে ফেলা হলো এবং ধ্বংসাবশেষ সমান করে দেয়া হল। আনাস (রাঃ) বলেন, তারপর কিবলার দিকে খেজুর গাছের সারিবদ্ধ থাম দেওয়া হল এবং দুই পাশে পাথর স্থাপন করা হল। নির্মাণ কাজের সময় সাহাবা-ই- কিরাম রাজায’ (উৎসাহোদ্দীপক শ্লোক) আবৃতি করছিলেন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সাথে আবৃতি করছিলেন। তারা বলছিলেনاللَّهُمَّ إِنَّهُ لاَ خَيْرَ إِلاَّ خَيْرُ الآخِرَهْ فَانْصُرِ الأَنْصَارَ وَالْمُهَاجِرَهْ হে আল্লাহ! আখিরাতের কল্যাণই প্রকৃত কল্যান। সূতরাং আনসার ও মুহাজিরদেরকে আপনি সাহায্য করুন।