মুসলিম শরীফ - হাদীস নং ২,১৬৮
তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যে উটের মালিক তার (যাকাত) আদায় করবে না, কিয়ামতের দিন সে উট পুর্বের চেয়ে অধিক মোটাতাজা হয়ে মালিকের নিকট উপস্থিত হবে। এরপর তাকে একটি প্রশস্ত সমতল মাঠে বসান হবে এবং ঐ উট তার পা ও খুরের দ্বারা তাকে পিষ্ট করবে। যদি কোন গরুর মালিক তার হক আদায় না করে তবে কিয়ামতের দিন সে গরু পূর্বের চেয়েও অধিক মোটা-তাজা অবস্থায় মালিকের নিকট উপস্থিত হবে। এরপর তাকে এক প্রশস্ত সমতল প্রান্তরে বসান হবে এবং সেগুলো তাকে শিং দ্বারা গুতাবে ও খুর দ্বারা পিষ্ট করবে। যদি কোন ছাগলের মালিক তার হক আদায় না করে তবে কিয়ামতের দিন সে ছাগল পূর্বের চেয়েও অধিক মোটা-তাজা অবস্থায় মালিকের নিকট উপস্থিত হবে। আর তাকে এক প্রশস্ত প্রান্তরে বসান হবে এবং সে ছাগল তাকে শিং দ্বারা গুতাবে ও খুর দ্বারা পিষ্ট করতে থাকবে। সেদিন এ ছাগল সমুহে কোনটি শিংবিহীন এবং শিংভাঙ্গা হবে না। আর যদি সোনা-এরুপা সঞ্চয়কারী কোন ব্যাক্তি এর হক আদায় না করে, তবে তার এ সঞ্চয় কিয়ামতের দিন মাথার চুলপড়া বিষধর সাপরূপে মালিকের নিকট উপস্থিত হবে এবং মুখ হা করে তার পেছনে ধাওয়া করবে। যখন সে সাপ তার নিকট আসবে তখন সে এর থেকে পালাবে। তখন সে তাকে ডেকে বলবে, তুমি তোমার সঞ্চয় গ্রহণ কর, যা তুমি লুকিয়ে রেখেছিলে। আমার তার কোন প্রয়োজন নেই। মালিক যখন দেখবে যে, এর থেকে বাচবার কোন উপায় নেই তখন সে সাপটির মুখে হাত ঢুকিয়ে দিবে। এরপর সাপটি তার হাতকে ষাঁড়ের মত কামড় দিয়ে ধরবে। আবূ যুবায়র (রহঃ) বলেন, আমি উবায়দ ইবনু উমায়র (রাঃ) কে এ কথা বলতে শুনেছি। এরপর আমি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম তিনিও উবায়দ ইবনু উমায়র (রাঃ) এর মত বললেন। রাবী আবূ যুবায়র (রহঃ) বলেন, আমি উবায়দ ইবনু উমায়রকে বলতে শুনেছি, এক ব্যাক্তি জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! উটের হক কি? তিনি বললেন, এর হক হল, পানি পান করাবার স্থানে এদেরকে দোহন করা, এদের (দ্বারা পানি উঠাবার) পাত্র অন্যকে ধার দেয়া, এগুলোর মধ্যে ষাড় উট ও দুগ্ধবতী উটনী অন্যকে ধার দেয়া এবং আল্লাহর পথে লোকদেরকে এগুলোর উপর আরোহণ করান।