Alhashorহাদীস সম্ভার
মু

মুসলিম শরীফ - হাদীস নং ২,৮০৮

প্রায় ২ মিনিট · ৩০০ শব্দ

তিনি বলেন, আমরা ইফরাদ হাজ্জের (হজ্জ) ইহরাম বেঁধে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে (মক্কার দিকে) অগ্রসর হলাম আর আয়িশা (রাঃ) উমরার ইহরাম বেঁধে আসলেন। আমরা যখন সারিফ নামক স্থানে পৌঁছলাম, আয়িশা (রাঃ)-এর মাসিক ঋতু শুরু হল। অবশেষে আমরা মক্কায় পৌছে কাবা ঘর তাওয়াফ করলাম এবং সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সাঈ করলাম। আমাদের মধ্যে যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিল না রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ইহরাম খুলে ফেলার নির্দেশ দিলেন। আমরা বললাম, কি প্রকারে ইহরাম খোলা হবে? তিনি বললেন, 'সম্পূর্ণরুপে ইহরামমুক্ত হওয়া।' অতএব আমরা স্ত্রী সহবাস করলাম, সূগন্ধি ব্যবহার করলাম এবং সাধারণ পোশাক পরিধান করলাম। তখন আরাফাত দিবস ও আমাদের মাঝে আর মাত্র চার দিনের ব্যবধান ছিল। অতঃপর তালবিয়া দিবসে (১০-ই যিলহাজ্জ) আমরা পূনরায় ইহরাম বাঁধলাম। এদিকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়িশা (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে ক্রন্দনরত অবস্থায় পেলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কি হয়েছে? আয়িশা (রাঃ)বললেন, ব্যাপার এই যে, আমার হায়েয দেখা দিয়েছে। লোকেরা ইহরাম খুলেছে কিন্তু আমি ইহরামমুক্ত হতে পারিনি এবং বায়তুল্লাহ এরও তাওয়াফ করতে পারিনি, আর এখন লোকেরা হাজ্জের (হজ্জ) উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটা এমন একটি ব্যাপার যা আল্লাহ তাআলা আদম (আঃ) এর কন্যা সন্তানদের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছেন। অতএব তুমি গোসল কর এবং হাজ্জের (হজ্জ) ইহরাম বাঁধ। তিনি তাই করলেন এবং হাজ্জের (হজ্জ) স্থানসমূহে অবস্থান করলেন। অতঃপর তিনি পবিত্র হলেন, কাবা ঘর তাওয়াফ করলেন এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করলেন। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এখন তোমার হাজ্জ (হজ্জ) ও উমরা উভয়টিই পূর্ণ হল। আয়িশা (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার অবস্থা এই যে, হাজ্জ (হজ্জ) না করা পর্যন্ত আমি (উমরার জন্য) বায়তুল্লাহ এর তাওয়াফ করতে পারি নি, কিন্তু হাজ্জ (হজ্জ) আদায় করে নিয়েছি। তিনি বললেন, হে আবদুর রহমান! তাকে নিয়ে চলে যাও এবং তানঈম থেকে তাকে উমরা করাও। এটা ছিল হাসবার রাতের ঘটনা।

ছবি বানান