মুসলিম শরীফ - হাদীস নং ২,৮১৪
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ... রাবী আতা (রহঃ) বলেন, আমি একদল লোকের মধ্যে ছিলাম। এ অবস্থায় জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) বলতে শুনলাম, আমরা মুহাম্মাদ এর সাহাবীগণ কেবল হাজ্জের (হজ্জ) ইহরামই বাঁধলাম। আতা (রহঃ) বলেছেনঃ জাবির (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চার যিলহাজ্জের (হজ্জ) ভোরে (মক্কায়) পৌছে আমাদেরকে হালাল হওয়ার নির্দেশ দিলেন। আতা বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা হালাল হও এবং স্ত্রীদের কাছে যাও। কিন্তু তার এ নির্দেশ বাধ্যতামূলক ছিল না, বরং তাদেরকে ন্ত্রী সহবাসের অনুমতি দেয়া হয়েছিল মাত্র। জাবির (রাঃ) বলেন, আরাফাত দিবসের আর পাঁচ দিন মাত্র বাকী। অতএব আমরা এ অবস্থায় আমাদেরকে স্ত্রীগমনের নির্দেশ দিলেন। তাহলে তো আমরা এমন অবস্থায় আরাফাতে পৌঁছব যে, আমাদের যৌনাঙ্গ থেকে বীর্য ঝরছে। আতা (রহঃ) বলেন, জাবির (রাঃ) তার হাত নেড়ে কথাগুলো বলছিলেন এবং আমি যেন তার হাতের নড়াচড়া দেখতে পাচ্ছি। জাবির (রাঃ) বলেন, ইত্যবসরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন এবং বললেন, তোমরা নিশ্চিত জান, আমি তোমাদের তুলনায় আল্লাহকে অধিক ভয় করি, আমি তোমাদের চেয়ে অধিক সত্যবাদী এবং পূণ্যবান। আমার সাথে কুরবানীর পশু না থাকলে আমি অবশ্যই হালাল হয়ে যেতাম যেমন তোমরা হালাল হয়েছ। আমি আমার বিষয়টি যদি আগে জানতাম, যেমন পরে জেনেছি, তবে আমি সাথে করে কুরবানীর পশু আনতাম না, অতএব তোমরা হালাল হও (ইহরাম ভঙ্গ কর)। আতা (রহঃ) বলেছেন, জাবির (রাঃ) বলেনঃ অতএব আমরা হালাল হলাম, তার কথা শুনলাম এবং তাঁর আনুগত্য করলাম। জাবির (রাঃ) আরও বলেন, আলী (রাঃ) (ইয়েমেনবাসীদের থেকে আদায়কৃত) খারাজ নিয়ে উপস্থিত হলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি কোন ধরনের ইহরাম বেঁধেছ? তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ধরনের ইহরাম বেঁধেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি কুরবানী কর এবং ইহরাম অবস্থায় থাক। জাবির (রাঃ) বলেন, আলী (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য কুরবানীর পশু এনেছিলেন। সুরাকা ইবনু মালিক ইবনু জুশুম (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! এটা কি শুধু এই বছরের জন্য, না সব সময়ের জন্য? তিনি বললেন, সর্বকালের জন্য।