মুসলিম শরীফ - হাদীস নং ২,৮৫২
আবদুল মালিক ইবনু শু’আয়ব ইবনু লায়স (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, বিদায় হাজ্জে (হজ্জ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তামাত্তু করেছেন, প্রথমে উমরা ও পরে হাজ্জ (হজ্জ) করেছেন এবং পশু কুরবানী করেছেন। যুল-হুলায়ফা থেকে সাথে করে কুরবানীর পশু নিয়েছিলেন। এখানে থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে উমরার, অতঃপর হাজ্জের (হজ্জ) তালবিয়া পাঠ শুরু করেন। লোকেরাও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরণে হাজ্জের (হজ্জ) সাথে উমরা যুক্ত করে তামাত্তু করেন। কতক লোকের কুরবানীর পশু ছিল এবং তারা তা সাথে নিয়েছিল, আর কতকের কুরবানীর পশু ছিলনা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা শরীফে উপনীত হয়ে লোকদের উদ্দেশ্যে বললেনঃ তোমাদের মধ্যে যাদের সাথে কুরবানীর পশু আছে, হাজ্জ (হজ্জ) শেষ না করা পর্যন্ত তাদের জন্য (সাময়িকভাবে) নিষিদ্ধ কোন জিনিস হালাল হবে না। আর তোমাদের মধ্যে যাদের সাথে কুরবানীর পশু নাই তারা যেন বায়তুল্লাহ এর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করে মাথার চুল ছোট করে হালাল হয়ে যায়। অতঃপর তারা (৮ যিলহাজ্জ) পূনরায় হাজ্জের (হজ্জ) জন্য ইহরাম বাঁধবে এবং (নিদিষ্ট দিনে) কুরনানী করবে। কোন ব্যাক্তি কুরবানীর পশু না পেলে হাজ্জ (হজ্জ) চলাকালীন সময়ে তিন দিন এবং বাড়িতে ফেরার পর সাত দিন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় পৌছে প্রথমে রুকন (হাজারে আসওয়াদ) স্পর্শ করলেন, অতঃপর বায়তুল্লাহ এর তাওয়াফ করলেন, তিন চক্কর সামান্য দ্রুতগতিতে এবং চার চক্কর ধীরগতিতে। বায়তুল্লাহ এর তাওয়াফ সমাপ্ত করে মাকামে ইবরাহীমের নিকট দু’রাকআত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর সালাম ফিরিয়ে সালাত শেষ করলেন। অতঃপর তিনি সাফা পাহাড়ে এলেন এবং সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সাতবার সাঈ করলেন। এরপর তিনি এমন কোন জিনিস হালাল করেননি- যা হারাম হয়েছিল (ইহরামের কারণে অর্থাৎ তিনি ইহরামমুক্ত হননি) যে পর্যন্ত না হাজ্জ (হজ্জ) সমাপন করেন। কুরবানীর দিন নিজের পশু কুরবানী করেন এবং কাবাঘর এর তাওয়াফ করেছেন। তারপর যে সব জিনিস হারাম ছিল, তা তার জন্য হালাল হয়ে গেল (অর্থাৎ তিনি ইহরাম খুললেন) আর যেসব লোক সাথে করে কুরবানীর পশু এনেছিল, তারাও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুরূপ করেছিল।