মুসলিম শরীফ - হাদীস নং ৩,১১৬
আবদুল্লাহ ইবনু উবায়দ বলেন, হারিস ইবনু আবদুল্লাহ প্রতিনিধি হিসেবে আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ানের রাজত্বকালে তার নিকট গিয়েছিলেন। আবদুল মালিক বললেন, আমি মনে করি না যে, আবূ যুবায়র অর্থাৎ ইবনু যুবায়র (রাঃ) আয়িশা (রাঃ) এর নিকট এমন কথা শুনেছেন যার দাবি তিনি করে থাকেন। [অর্থাৎ ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) এর ভিত এর উপর কাবা ঘরের পুননির্মাণের ব্যাপারে রাসুলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অভিপ্রায় সম্পর্কিত কোন হাদীস তিনি আয়িশা (রাঃ)-এর নিকট শুনেন নি।] হারিস বলেন, হ্যাঁ, আমি নিজেই তার নিকট এই হাদীস শুনেছি। আবদুল মালিক বললেন, আপনি তাকে কি বলতে শুনেছেন? হারিস বলেন, আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “তোমার কওমের লোকেরা কাবা ঘরের ভীত (আয়তনে) ছোট করে ফেলেছো নিকট অতীতে তারা শিরক পরিত্যাগ না করলে আমি তাদের পরিত্যক্ত অংশটুকু কাবার অন্তর্ভুক্ত করে দিতাম। তোমার সম্প্রদায়ের লোকেরা যদি আমার পরে তা পুননির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে এস, আমি তোমাকে তাদের পরিত্যক্ত অংশটুকু দেখিয়ে দেই” অতএব রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়িশা কে (হাতীম সংলগ্ন) প্রায় সাত গজ স্থান দেখিয়ে দিলেন। এই হাদীস আবদুল্লাহ ইবনু উবায়দ কর্তুক বর্ণিত। ওয়ালীদ ইবনু আতা এ বর্ণনার উপর আরো বৃদ্ধি করেছেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি যমীনের সমতলে দুটি দরজাও নির্মাণ করতাম, একটি পূর্বদিকে এবং অপরটি পশ্চিমদিকে। তুমি কি জান তোমার গোত্রের লোকেরা কা’বার দরজা (ভূমি থেকে) উঁচুতে স্থাপন করেছে কেন?” আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ গর্ব ও অহংকারের বশবতী হয়ে (তারা এটা করেছে) যাতে কেবল সেই ব্যক্তই কাবার অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে- যাকে তারা অনুমতি দেবে। যখন কোন ব্যক্তি কাবার অভ্যন্তরে প্রবেশের ইচ্ছা করত, তারা তাকে বেয়ে উপরে উঠতে দিত। এমনকি সে যখন তাতে প্রবেশ করত, তখন তারা তাকে টেনে নীচে ফেলে দিত। আবদুল মালিক হারিসকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি আয়িশা (রাঃ) কে একথা বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাবী বলেন, কিছুক্ষণ তিনি হাতের ছড়ি দিয়ে মাটি খুড়তে লাগলেন, এরপর বললেনঃ আমার মনে হয় যে দায়ভার তিনি নিজে বহন করেছিলেন তার উপর যদি তাকে ছেড়ে দিতাম সেটাই ভাল হত।