মুসলিম শরীফ - হাদীস নং ৫,১৪২
তিনি বলেন, পরিখা খননের সময় আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্যে ক্ষুধার লক্ষণ দেখতে পেলাম। তারপর আমার স্ত্রীর কাছে ফিরে এসে তাকে বললাম, তোমার নিকট কিছু আছে কি? কেননা আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অতি ক্ষুধার্ত অবস্থায় দেখেছি। সে একটি চামড়ার থলে বের করলো, যাতে এক সা’ পারিমাণ যব ছিল। আর আমাদের একটি গৃহপালিত বাচ্চা মেষ ছিল। আমি সেটা যবেহ করলাম, আর স্ত্রী যবগুলো পিষে নিল। আমার কাজ সমাধার সাথে সাথে সেও তার কাজ সমাধা করলো। আমি (রান্নার জন্য) গোশত কেটে ডেগচিতে রাখলাম। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ফিরে এলাম। (যাওয়ার সময়) স্ত্রী আমাকে বললো, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সঙ্গীদের দ্বারা (অধিক লোকের দাওয়াত করে) আমাকে লজ্জিত করবেন না। তিনি বলেন, অতঃপর আমি তাঁর কাছে এসে চুপেচুপে তাঁকে বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা একটি মেষ যবেহ করেছি আর আমার স্ত্রী আমাদের এক সা’ পরিমাণ যব ছিল, তাই পিষে নিয়েছে। কাজেই আপনি কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে আসুন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচ্চকণ্ঠে বললেন, হে পরিখা খননকারীরা! জাবির তোমাদের জন্য কিছু খাবার প্রস্তুত করেছে। তোমরা সকলে চল। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমাকে) বললেন, আমি না আসা পর্যন্ত তোমাদের ডেগ (চুলা থেকে) নামাবে না এবং খামীর দিয়ে রুটি তৈরি করবে না। আমি এলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের সামনে আসলেন। আমি আমার স্ত্রীর কাছে এলে সে আমাকে (তিরস্কার করে) এই দেখে বললো, (তোমার সর্বনাশ হোক, তোমার সর্বনাশ হোক)। আমি বললাম, আমি তাই করেছি, তুমি যা আমাকে বলেছিলে। অতঃপর সে খামীরগুলো বের করলো। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাতে একটু লালা দিলেন এবং বরকতের দু’আ করলেন। অতঃপর তিনি ডেগের কাছে গিয়ে তাতেও একটু লালা দিলেন এবং বরকতের দু’আ করলেন। তারপর তিনি বললেন, রুটি প্রস্তুতকারিনাকে ডাক, যে তোমার সাথে রুটি প্রস্তুত করবে। আর তুমি ডেগ থেকে পেয়ালা ভরে ভরে নিবে। আর ডেগ (চুলা থেকে) নামাবে না। তারা ছিলেন এক হাজার লোক। আল্লাহর কসম! তাঁরা সকলে আহার করলেন। অবশেষে তাঁরা তা ছেড়ে এমন অবস্থায় ফিরে গেলেন যে, আমাদের ডেগ পুর্বের মত উথলাচ্ছিল। আর আমাদের খামীর থেকে আগের মত রুটি তৈরি করা হচ্ছিল।