মুসলিম শরীফ - হাদীস নং ৫,২৩৫
তিনি বলেন, আসমা (রাঃ) আমাকে আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) এর নিকট এই বলে পাঠালেন যে, আমি জানতে পেরেছি তুমি নাকি তিনটি জিনিসকে হারাম মনে কর। কাপড়ে (রেশমের) নকশা বা নকশী পাড়, গাঢ় লাল রং এর মীছারা (এক জাতীয় রেশমজাত লাল বর্ণের গদীর আচ্ছাদন) ও রজবের পুরো মাস সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করা। তখন আবদুল্লাহ (রাঃ) আমাকে বললেন, আপনি যে রজব মাসের সাওম হারামের কথা বললেন এটা সে ব্যক্তির পক্ষে কিভাবে সম্ভব যিনি সদাসর্বদা সাওম পালন করেন? আর আপনি যে কাপড়ে (রেশমের) পাড় বা নকশার কথা বললেন, এ সমন্ধে আমি উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, রেশমী কাপড় কেবল সে লোকই পরবে (পরকালে) যার কোন হিসসা নেই। তাই আমার আশংকা হল নকশাও এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। আর গাঢ় লাল রঙ-এর মীছারা (পর্দার আচ্ছাদন) তা এই তো আবদল্লাহরই মীছারা। দেখলাম, আসলেই সেটি গাঢ় লাল রং-এর (সুতি বা পশমী কাপড়)। এরপর আমি আসমা (রাঃ) এর কাছে ফিরে গেলাম এবং তাঁকে এ বিষয়ে খবর দিলাম। তখন তিনি বললেন, এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জুব্বা। এই বলে তিনি একটি তায়লামান কিসরাওয়ানী (পারস্য সম্রাট কিসরার দিকে সন্বন্ধযুক্ত) সবুজ রং এর একটি জুব্বা বের করলেন যার পকেটটি ছিল রেশমের তৈরি এবং এর এর দুই পাশের ফাঁড়া ছিল খাটি রেশমের টুকরা দ্বারা আবৃত। তিনি বললেন, এটি আয়িশার মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর কাছেই ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর আমি এটি নিয়েছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি পরিধান করতেন। তাই আমরা রোগীদের শেফা হাসিলের জন্য এটি ধৌত করি এবং সে পানি তাদের কে পান করিয়ে থাকি।