Alhashorহাদীস সম্ভার
মু

মুসলিম শরীফ - হাদীস নং ৬,০৭২

প্রায় ৩ মিনিট · ৪১৫ শব্দ

তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীগণ রাসুল তনয়া ফাতিমাকে তাঁর কাছে পঠেলেন। সে এসে অনুমতি চাইলো। তিনি তখন আমার চাদর গায়ে, আমার সাথে শোয়া ছিলেন। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। ফাতিমা (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার বিবিগণ আমাকে পাঠিয়েছেন, আবূ কুহাফার কন্যার (আয়শা) ব্যাপারে তাঁরা আপনার সুবিচার চান। আমি চুপ করে রইলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেনঃ হে স্নেহের মেয়ে! আমি যা ভালবাসি, তা কি তুমি ভালবাস না? সে বলল, হ্যাঁ, অবশ্যই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তবে একে ভালবাসো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এ কথা শুনে ফাতিমা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীদের কাছে ফিরে গেলেন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তিনি যা বলেছেন, আর তিনি তাঁকে যা উত্তর দিয়েছেন, তা তাঁদেরকে বললেন। তারা বললেনঃ তুমি আমাদের কোন উপকার করতে পারলে না। তুমি আবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গিয়ে তাঁকে বল, আপনার বিবিগণ আবূ কুহাফার মেয়ের ব্যাপারে আপনার কাছে সুবিচার চাচ্ছে। ফাতিমা (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! তার ব্যাপারে আমি কোনদিন তার সাথে কথা বলতে যাবো না। আয়িশা (রাঃ) বলেন, এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীগণনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর (অন্যতম) স্ত্রী যয়নব বিনত জাহাশ (রাঃ) তাঁর কাছে পাঠালেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চোখে তিনি ছিলেন আমার সমপর্যায়ের। যয়নবের চেয়ে দ্বীনদার, আল্লাহভীরু, সত্যভাষিনী, মায়ামযী, দানশীনা এবং আল্লাহর নৈকট্যলাভের পথে ও দান-খয়রাতের জন্যে নিজেকে শক্তভাবে ব্যবহার করার মত কোন মহিলা আমি দেখি নি। তবে তাঁর মাঝে শুধু একটা হঠাৎ ক্ষিপ্ততা ছিল, এটা থেকেও তিনি খুব দ্রুত ঠাণ্ডা হয়ে যেতেন। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে অনুমতি চাইলেন। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার চাঁদরে আবৃত থাকা অবস্থায়ই অনুমতি দিলেন, যে অবস্থায় ফাতিমা (রাঃ) তার কাছে এসেছিল। তিনি বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার বিবিগণ আমাকে পাঠিয়েছেন। আবূ কুহাফার মেয়ের ব্যাপারে তাঁরা আপনার সুবিচার চান। আয়িশা (রাঃ) বলেন, অতঃপর তিনি আমাকে নিয়ে এলেন এবং কিছু বড় বড় কথা বললেন। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চোখের দিকে দেখছিলাম, তিনি আমায় কিছু বলার অনুমতি দিবেন কিনা? আমি বুঝতে পারলাম যে, যয়নবের কথার উত্তর দিলে তিনি কিছু মনে করবেন না। তিনি বলেন, তখন আমিও তাঁর উপর কথা বলতে লাগলাম এবং কিছুক্ষণের মধ্যে তাঁকে চুপ করিয়ে দিলাম। তিনি বলেন, পরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে বললেনঃ এটা তো আবূ বকরের মেয়ে (না)। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু কুহযায (রহঃ) ... যুহরী (রহঃ) থেকে উক্ত সনদে এর সমার্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি 'যখন আমিও তাঁর সাথে কথা বলা শুরু করলাম তখন অল্প সময়েই তাকে পরাভূত করে দিলাম' বলেছেন।

ছবি বানান