Alhashorহাদীস সম্ভার
মু

মুসলিম শরীফ - হাদীস নং ৬,০৮৫

প্রায় ৫ মিনিট · ৬৭১ শব্দ

তিনি বলেন, এগারজন মহিলা বসে অঙ্গীকার ও চুক্তিবদ্ধ হলো যে, তারা নিজ নিজ স্বামীর ব্যাপারে কিছু গোপন করবে না। প্রথম মহিলা বললো, আমার স্বামী লাল উটের গোশতের মতো, যা দুর্গম এক পাহাড়ের চুড়ায় রক্ষিত। না ওখানে আরোহণ করা সম্ভব, আর না এমন মোটা তাজা যা সংরক্ষণ করা যায়। দ্বিতীয় মহিলা বললো, আমি আমার স্বামীর খবর ছড়াতে পারবো না। আমার ভয় হয়, আমি তাকে ছেড়ে না দেই। আমি যদি তার বিবরণ দিতে যাই তবে তার গোপনীয় ও প্রকাশ্য সব দোষই বর্ণনা করতে হবে। তৃতীয় মহিলা বললো, আমার স্বামী খুব লম্বা। ওর দোষ বললে আমি পরিত্যক্ত হবো, আর চুপ থাকলে ঝুলে থাকবো। চতুর্থ মহিলা বললো, আমার স্বামী ’তিহামা’ (নির্জন মরু আরব) এর রজনীর মতো (নিথর)। নাতিশীতোষ্ণ (গরমও নয় আর ঠাণ্ডাও নয়) ভয়ও নেই, বিরক্তিও নেই। পঞ্চম মহিলা বললো, আমার স্বামী যখন ঘরে আসে তখন চিতা বাঘ, আর যখন বাইরে যায় তখন সিংহ। রক্ষিত মাল-সম্পদ নিয়ে সে কোন প্রশ্ন করে না। ষষ্ঠ মহিলা বললো, আমার স্বামী খেতে বসলে সব খেয়ে ফেলে পান করলে একেবারে নিঃশেষ করে ফেলে। আর শুতে গেলে একদম হাত পা গুটিয়ে রয়। আমার প্রতি হাত বাড়ায় না, যাতে আমার (মনের) অবস্থা বুঝতে পারে। সপ্তম মহিলা বললো, আমার স্বামী নির্বোধ, অক্ষম ও বোবার মত। সব দোষই তার মধ্যে বিদ্যমান। চাইলে তোমার মাথায় আঘাত করবে অথবা অঙ্গে প্রহার করবে অথবা উভয়ই একত্রে সংঘটিত করবে। অষ্টম মহিলা বললো, আমার স্বামীর গন্ধ যারনাবের সুগন্ধির মতো, তার স্পর্শ খরগোশের মতো। নবম মহিলা বললো, আমার স্বামী এমন যার প্রাসা’দর খাম্বাগুলো সুউচ্চ, তরবারির খাপগুলো দীর্ঘ, বাড়ির আঙ্গিনায় অধিক ছাই। কাচারী ঘরের পার্শ্বেই তার বাড়ি। দশম মহিলা বললো, আমার স্বামী মালিক। আর মালিক এর কথা কি বলব, আমার এ প্রশংসার চেয়ে আরো শ্রেষ্ঠ সে। তার আছে অনেক উট, তাদের জন্য উটশালাও অনেক, তবে চারণভূমি কম। উটেরা যখন বাদ্য-বাজনার শব্দ শোনে, তখন নিজেদের যবেহের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে পড়ে। একাদশ মহিলা বললো, আমার স্বামীর নাম আবূ যার। কি চমৎকার আবূ যার। অলংকার দিয়ে সে আমর দুকান ঝুলিয়ে দিয়েছে, বাহুদ্বয় ভরপুর করেছে চর্বিতে। আমাকে আদর সোহাগ দিয়েছে, আমিও নিজেকে আদরনীয়া-সোহাগিণী বোধ করছি। সে আমাকে পাহাড়ের পাদদেশে ভেড়া ও বকরীওয়ালাদের মাঝে পেয়েছিলাম। এরপর সে আমাকে উট, ঘোড়া, জমি-জমা ও ফসলাদির অধিকারী বানিয়েছে। তার কাছে আমি কথা বললে সে তা ফেলে না। আমি ঘুমালে ভোর পর্যন্ত শুয়ে থাকি আর পান করলে তৃপ্তি অর্জন করি। আবূ যার এর মা, কতই না ভালো আবূ যারা এর মা। তার পাত্র বিরাট আকারের। তার কুঠুরি প্রশ্বস্ত। আবূ যার এর ছেলে, কত ভালো আবূ যার এর ছেলে, তার শয্যা যেন তরবারির খাপ। বকরির একটি বান (দুধ) খেয়েই সে তৃপ্তিবোধ করে। আবূ যার এর মেয়ে কতই না ভালো আবূ যারা এর মেয়ে। মা-বাবার অনুগত, পোশাকভরা শরীর, প্রতিবেশীর ঈর্ষার পাত্রী। আবূ যার এর বাদী, কত ভালো আবূ যার এর বাদী। আমাদের কথা প্রচার করে বেড়ায় না। আমাদের খাদ্য নষ্ট করে না, ঘর-বাড়ি আবর্জনা পূর্ণ রাখে না। উম্মু যারা বলেন, একদা আবূ যার বাইরে বের হলেন। তখন আমাদের অবস্থা ছিল, বড় বড় দুধের পাত্র থেকে মাখন তোলা হতো। তখন এক মহিলার সাথে তার সাক্ষাত ঘটে। তার সাথে ছিলো দুটো শিশু। (শিশু দুটো ছিল) দুটি চিতার মত। তারা তার কোকের নীচ দিয়ে দুটি ডালিম নিয়ে খেলা করছিল। তখন আবূ যার আমাকে তালাক দেয় এবং সে মহিলাকে বিয়ে করে। তারপর আমি এক ব্যক্তিকে বিবাহ করলাম। সে ছিল সরদার, খুব ভালো ঘোড় সওয়ার ও বর্শা ধারণকারী। সে আমার আস্তাবলে বহু চতুষ্পদ জন্তু সমবেত করে। প্রত্যেক প্রকার থেকে সে আমাকে একেক জোড়া দান করে এবং সে আমাকে বলে, হে উম্মু যারা! তুমি খাও এবং তোমার আপনজনকে দান কর। তবে দ্বিতীয় স্বামী আমায় যা কিছু দিয়েছে তার সব যদি জমা করি, তবু আবূ যার এর ছোট্ট একটি পাত্রের সমান হবে না। আয়িশা (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ তোমার জন্য আমি উম্মে যার এর জন্য আবূ যার এর মতো। হাসান ইবনু আলী হুলওয়ানী (রহঃ) ... হিশাম ইবনু উরওয়া (রাঃ) থেকে উক্ত সনদে বর্ননা করেছেন। তবে এতে বর্ণনা সন্দেহ ছাড়া يَايَاءُ طَبَاقَاءُ রয়েছে, আরো রয়েছে قَلِيلاَتُ الْمَسَارِحِ এবং রয়েছে صِفْرُ رِدَائِهَا وَخَيْرُ نِسَائِهَا وَعَقْرُ جَارَتِهَا (অর্থাৎ তার কটিদেশ ছিল কৃশ, অন্যান্য মহিলার তুলনায় ছিল শ্রেষ্ঠ, সতীনের ঈর্ষার পাত্র) এবং বলেছেন لاَ تَنْقُثُ مِيرَتَنَا تَنْقِيثًا আরো বলেছেন أَعْطَانِي مِنْ كُلِّ ذَابِحَةٍ زَوْجً।

ছবি বানান