নাসাঈ শরীফ - হাদীস নং ৩,৫৩৭
মুহাম্মদ ইবন সালামা ও হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... যয়নব বিনত আবু সালামা (রাঃ) এই তিনটি হাদীস বর্ণনা করেন। যয়নব (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী উম্মে হাবীব (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলাম, যখন তাঁর পিতা আবু সুফিয়ান ইবন হারব ইনতিকাল করেন। এ সময় উম্মে হাবীব (রাঃ) সুগন্ধি আনান। তিনি সর্বাগ্রে তা বাঁদীর গায়ে লাগান, পরে তিনি তা নিজের চেহারায় মাখলেন এবং বললেনঃ আল্লাহর শপথ! এখন আমার সুগন্ধি লাগাবার কোন প্রয়োজন ছিল না; কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে নারী আল্লাহ্ এবং আখিরাতের উপর ঈমান রাখে, তার জন্য কোন মৃতের উদ্দেশে তিন দিনের অধিক শোক করা উচিত নয়। কিন্তু সে নিজ স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে। এরপর আমি যায়নব বিনতু জাহশ (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলাম, যখন তার ভাই ইনতিকাল করেছিল। তিনি সুগন্ধি লাগিয়ে বললেনঃ আল্লাহর শপথ ! এখন আমার সুগন্ধির প্রয়োজন ছিল না, কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছিঃ যে নারী আল্লাহ্ এবং আখিরাতের উপর ঈমান রাখে, তার জন্য কোন মৃতের উদ্দেশে তিন দিনের অধিক শোক করা উচিত নয়। কিন্তু সে নিজ স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে। যয়নব (রাঃ) বলেনঃ আমি উম্মে সালামা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ এক মহিলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলতে লাগলোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার কন্যার স্বামী মারা গেছে এবং তার চোখে ব্যথা, যদি আপনি অনুমতি দেন তবে আমি তার চোখে সুরমা লাগাতে পারি। তিনি বললেনঃ সুরমা লাগাবে না। এখন তো শুধু চার মাস দশদিন শোক করতে হয়, অথচ জাহিলী যুগে এরূপ নারী এক বছর পর গোবর ছিটাতো। হুমাইদ ইবন নাফে’ (রহঃ) বলেন, আমি যায়নবকে জিজ্ঞাসা করলামঃ গোবর ছিটাবার অর্থ কী? যয়নব (রাঃ) বর্ণনা করলেন, জাহিলী যুগে যে নারীর স্বামীর মৃত্যু হতো, সে নারী এক ক্ষুদ্র অন্ধকার প্রকোষ্টে প্রবেশ করতো। আর সে নিকৃষ্ট কাপড় পরিধান করতো, এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে সে কোন প্রকার সুগন্ধি লাগাতো না, এক বছর পর গাধা, বকরী অথবা অন্য কোন পাখী তার কাছে আনা হতো। পরে সে ঐ জানওয়ারকে নিজের শরীরে মর্দন করতো, ফলে ঐ জন্তু মারা যেত। তারপর সে বের হতো। এরপর তাকে উটের গোবর দেয়া হতো এবং সে তা ছিটাতো। পরে সুগন্ধি মাখতো, অথবা মনে যা চাইতো, তা করতো।