নাসাঈ শরীফ - হাদীস নং ৩,৯৪০
আলী ইবন হুজর (রহঃ) ... যুহরী (রহঃ) বলেন, যখন দুই গোলাম শিরকতে মুফাওাযা করে, পরে একজন মুকাতাব হয়ে যায়। তিনি বলেন, ইহা বৈধ হবে যখন একজন অন্যজনের পক্ষ হতে আদায় করবে। অংশীদারদের একজনের অংশ ত্যাগ করা এই চুক্তিনামা অমুক, অমুক, অমুক এবং অমুক ব্যক্তি লিখেছে, এরা সকলে অঙ্গীকার করলো, আপন অন্য সাথীদের জন্য যাদের নাম এই চুক্তিনামায় লেখা রয়েছে। স্বজ্ঞানে, স্বেচ্ছায় যে, আমরা সকলে যে ব্যবসা, ক্রয়-বিক্রয়, শরীকী লেনদেন, করয, আমানত, মুযারাবাত ধার, কৃষি এবং কেরায়া ইত্যাদি শরীকীভাবে আরম্ভ করেছি, এ সকল নিজের ইচ্ছায় ত্যাগ করলাম। আর যে শরীকী কারবারে এখন পর্যন্ত জড়িত আছি, তা পরিত্যাগ করলাম। মাল ও ব্যবসায়ের প্রত্যেক ব্যাপার ভিন্ন ভিন্নভাবে বর্ণনা করলাম। আর এর সীমা ও পরিমাণ পৃথক পৃথক ঠিক করলাম। আমরা প্রত্যেকে নিজেদের পূর্ণ অংশ নিজের আয়ত্ত্বে নিলাম। এখন আমাদের কারো অন্যের উপর কোন দাবি-দাওয়া নেই। কেননা প্রত্যেকেই নিজের প্রাপ্য বুঝে পেয়েছে। এখন অমুক, অমুক, অমুক এবং অমুক ব্যক্তি এর তসদীক ও দস্তখত করল। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন হলে কিরূপে লিখবে আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ স্ত্রীদেরকে তোমরা যা দিয়েছ, তার থেকে কোন কিছু গ্রহণ করা তোমাদের জন্য বৈধ নয়; অবশ্য যদি তাদের উভয়ের এই ভয় হয় যে, তারা আল্লাহর সীমারেখা ঠিক রাখতে পারবে না। আর তোমরা যদি আশংকা কর যে, তারা আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করে চলতে পারবে না; তবে স্ত্রী যদি কোন কিছুর বিনিময়ে নিজেকে মুক্ত করে নিতে চায়, তাতে তাদের কারো কোন অপরাধ নেই। (সূরা বাকারাঃ ২২৯) লিখিত চুক্তিনামা। যা অমুকের কন্যা অমুক অমুকের পুত্র অমুককে স্বজ্ঞানে, স্বেচ্ছায় লিখে দিয়েছে যে, আমি তোমার স্ত্রী ছিলাম, তুমি আমার সাথে সহবাস করেছ এবং মিলিত হয়েছ। এখন তোমার সাথে আমার থাকা আমি পছন্দ করি না, বরং আমি তোমার থেকে পৃথক হওয়া কামনা করি। তুমি আমার কোন ক্ষতি করনি এবং তোমার উপর আমার যে হক ছিল তা হতে আমাকে বঞ্চিত করনি। যখন আমি আল্লাহর সীমালঙ্ঘনের ভয় করেছি, তখন তোমাকে অনুরোধ করেছি যে, তুমি আমার সাথে খোলা কর এবং আমাকে এক তালাক বায়েন দিয়ে দাও, আমার ঐ মাহরের বিনিময়ে যা তোমার নিকট রয়েছে। আর তা এত দীনার অথবা মিসকাল হবে। আর তা ব্যতীত আমি তোমাকে যে এত দীনার দান করেছি, তারও বিনিময়ে। সুতরাং তুমি আমার যে অনুরোধ রক্ষা করেছ ঐ মাহরের বিনিময়ে যা উপরে লিখিত হয়েছে, তা ব্যতীত সেই দীনারের বিনিময়ে, যা উপরে উল্লেখ করা হয়েছে; আর তুমি আমাকে এক তালাক বায়েন দিয়েছ, আর তোমার সামনে আমি তা গ্রহণ করেছি, যখন তুমি আমার সাথে কথা বলেছাে আর আমি তোমার কথার উত্তর দিয়েছি আমাদের কথা শেষ হওয়ার পূর্বে। যে টাকার বিনিময়ে তুমি আমাকে খােলা করলে, ঐ সকল টাকা আমি তোমাকে দিয়ে দিলাম। এখন আমি তোমার থেকে পৃথক হলাম। আমি এখন নিজের ইচ্ছায় কাজ করতে পারবাে, ঐ খােলার কারণে, যা উপরে বর্ণিত হলো। এখন আমার উপর তোমার কোন ক্ষমতা চলবে না, আর কোন দাবিও না এবং তোমার পুনরায় আমাকে গ্রহণ করার ক্ষমতাও নেই। আর আমার মত স্ত্রীর যা পাওনা থাকে, আমি সবই তোমার থেকে পেয়েছি। অর্থাৎ খােরপোষ এবং ইদ্দত ইত্যাদি। এখন হতে আমাদের মধ্যে কারো অন্যের উপর কোন হক নেই, দাবিও নেই। যদি কেউ কোন দাবি করে, তবে তা বাতিল বলে গণ্য হবে এবং অপরপক্ষ তার সে দাবি-দাওয়া থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকবে। আমরা প্রত্যেকে গ্রহণ করে নিলাম যা অপরপক্ষ স্বীকার করেছে এবং যার দায় থেকে অপরপক্ষ মুক্তিদান করেছে। যা চুক্তিপত্রে লেখা হয়েছে সামনা-সামনি আলাপ-আলোচনার সময়, এই মজলিস হতে উঠে যাওয়ার পূর্বেই, যে মজলিসে আমাদের উভয়ের অঙ্গীকার হলো। তারপর উভয় পক্ষ এতে দস্তখত করবে। দাস-দাসীকে মুকাতাব বানানোর চুক্তিপত্র আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ আর তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীদের মধ্যে কেউ তার মুক্তির জন্য লিখিত চুক্তি করতে চাইলে, তাদের সাথে চুক্তিতে আবদ্ধ হও, যদি তোমরা তাদের মধ্যে মঙ্গলের সন্ধান পাও। (সূরা আন-নূরঃ ৩৩) ইহা ঐ অঙ্গীকারনামা, যা অমুকের পুত্র অমুক স্বজ্ঞানে, স্বেচ্ছায় তার অমুক গোত্রীয় অমুক নামের গোলামের জন্য লিপিবদ্ধ করেছে, যে আজ পর্যন্ত তার মালিকানাধীন ছিল। আমি তোমাকে পূর্ণ তিন হাজার খাঁটি দিরহাম-এর বিনিময়ে মুকাতাব করলাম, যার প্রতি দশ দিরহামের ওজন সাত মিসকালের সমান; আর তা ছয় বছরে কিস্তিতে আদায় করা হবে। প্রথম কিস্তি অমুক বছরের অমুক মাসের চাঁদ দেখার সাথে সাথে দেয়া হবে। যদি উল্লেখিত টাকা বরাবর কিস্তিতে আদায় করা হয়, তবে তুমি মুক্ত। আর তখন তোমার জন্য ঐ সকল কথা বৈধ, যা একজন আযাদ ব্যক্তির জন্য বৈধ হয়ে থাকে। আর তোমার উপর তা বর্তাবে, যা তাদের উপর বর্তায়। যদি তুমি তা সময়মত আদায় করতে না পার, তবে এই চুক্তিনামা বাতিল হয়ে যাবে এবং তুমি পুনরায় দাস হিসেবে গণ্য হবে। আর আমি এই পত্রে ঐ সকল শর্তে তোমার কিতাবাত গ্রহণ করলাম, আমার কথা শেষ হওয়ার পূর্বে এবং মজলিস শেষ হওয়ার পূর্বে এই চুক্তিনামায় লেখা হয়েছে। তারপর উভয়ে তাতে দস্তখত করবে। মুদাব্বার বানানোর চুক্তিপত্র এই অঙ্গীকার পত্র অমুকের পুত্র অমুক নিজের অমুক নামের দাস সম্পর্কে লিখছে, যে রুটি বানাতো এবং রান্নার কাজ করতো এবং চুক্তিকালে সে তার স্বত্ত্বাধীনে ছিল। আমি সওয়াবের নিয়্যতে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তোমাকে মুদাব্বার করলাম, এখন আমার মৃত্যুর পর তুমি মুক্ত হবে। তোমার উপর কারো কোন কর্তৃত্ব থাকবে না, কিন্তু মীরাস আমার এবং আমার ওয়ারিসদের জন্য থাকবে। অমুকের পুত্র অমুক এই চুক্তিপত্রে যা লেখা থাকে তা চুক্তিপত্রে বর্ণিত সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তার সামনে পঠিত হওয়ার পর স্বেচ্ছায়-সজ্ঞানে এবং তারপক্ষ হতে এর অনুমোদন স্বরূপ তা স্বীকার করে নিয়েছে। সে তাদের সামনে স্বীকার করল যে, আমি এই পত্র শুনলাম, বুঝলাম, আর আমি এর উপর আল্লাহকে সাক্ষী রাখছি। আর আল্লাহ্ তা’আলাই সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট। আর তারপর ঐ সকল সাক্ষী যারা এখানে উপস্থিত রয়েছে। অমুক বাবুর্চি গোলাম সুস্থ শরীরে স্বজ্ঞানে এই অঙ্গীকার করছে যে, যা এই চুক্তিনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, তা সবই সঠিক। মুক্তিদানের চুক্তিপত্র ইহা ঐ চুক্তিপত্র যা অমুকের পুত্র অমুক নিজের সুস্থাবস্থায় স্বজ্ঞানে অমুক বছরের, অমুক মাসে নিজের রুমী দাসের জন্য লিখছে। যার নাম অমুক, আজ পর্যন্ত সে তার কর্তৃত্ব ও মালিকানাধীন রয়েছে। আমি আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য এবং সওয়াব লাভের নিয়্যতে তোমাকে বিনাশর্তে পূর্ণভাবে মুক্তি দান করলাম। যা হতে পুনরায় প্রত্যাবর্তন করার কোন সুযোগ নেই এবং তোমাকে আবার প্রত্যাহার করে নেওয়ারও কোন অধিকার আমার নেই। এখন হতে তুমি আল্লাহর জন্য এবং আখিরাতের সওয়াবের জন্য মুক্ত স্বাধীন। তোমার উপর আমার কোন কর্তৃত্ব নেই এবং আর কারো নয়। কিন্তু মীরাস আমার জন্য এবং আমার মৃত্যুর পর আমার ওয়ারিসদের জন্য থাকবে।