তিরমিযী শরীফ - হাদীস নং ১,২০৫
মুসআব ইবনু যুবায়র যখন (ইরাক অঞ্চলের) আমীর তখন আমাকে লিআনকারী স্বামী-স্ত্রীকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। কিন্তু এই বিষয়ে কি বলব তা আমার জনা ছিল না। তাই আমি আমার ঘর থেকে উঠে আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বাড়িতে গেলাম এবং তাঁর কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলাম। আমাকে বলা হল যে, তিনি দুপুরের বিশ্রাম নিচ্ছেন। এই সময় তিনি (নিজে ভিতর থেকে) আমার কথা শুনে বললেন, ইবনু জুবায়র, ভিতরে এসো। কোন প্রয়োজন ছাড়া অন্য কিছু তোমাকে এখানে নিয়ে আসেনি। ইবনু জুবায়র বলেন, আমি ভিতরে প্রবেশ করলাম। (দেখলাম) তিনি উটের পিঠে ব্যবহৃত আসেনের একটি কাপড়ের টুকরায় শুয়ে আছেন। আমি বললাম, হে আবূ আবদুর রহমান, লিআনকারী স্বামী-স্ত্রীর একজনকে আরেকজন থেকে কি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে? তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ্, হ্যাঁ। এই বিষয়ে অমুকের ছেলে অমুক সর্বপ্রথম জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলেছিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্, কি বলেন, কেউ যদি তার স্ত্রীকে অপকর্মে দেখতে পায় তবে সে কি করবে? যদি সে এই বিষয়ে কথা বলে তবুও ভীষণ এক বিষয়ে সে কথা বলল। আর চুপ থাকলেও তো সে মারাত্মক এক বিষয়ে চুপ রইল। ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, (এই কথা শুনে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লা মচুপ করে রইলেন, তাকে কোন জবাব দিলেন না। এই ঘটনার পর ঐ সাহাবী আবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলেন। বললেন, যে বিষয়ে আপনাকে প্রশ্ন করেছিলাম সে বিষয়ে আমিই নিপতিত। তখন আল্লাহ্ তা’আলা সূরা নূরের এই আয়াত নাযিল করেনঃوَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ شُهَدَاءُ إِلاَّ أَنْفُسُهُمْ - আর যারা নিজেদের স্ত্রীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে অথচ নিজেরা ব্যতীত তাদের কোন সাক্ষী নাই ......আয়াতের শেষ পর্যন্ত। পঞ্চমবার বলবে, সে মিথ্যাবাদী হলে তার উপর নেমে আসবে আল্লাহর লা’নত। আর স্ত্রীর শাস্তি রহিত হবে যদি সে চারবার আল্লাহর নামে কসম করে সাক্ষ্য দেয় যে তার স্বামী অবশ্যই মিথ্যাবাদী। এবং পঞ্চমবারে বলে, তার স্বামী সত্যবাদী হলে তার নিজের উপর নেমে আসবে আল্লাহর গযব। তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকলে তোমাদের কেউ অব্যাহতি পেতে না। নিশ্চয় আল্লাহ তাওবা কবূলকারী, প্রজ্ঞাময়। [সূরা নূর ২৪ : ৬-১০] অনন্তর তিনি ঐ ব্যক্তিকে ডাকলেন এবং আয়াতগুলো তাকে তিলাওয়াত করে শোনালেন, তাকে নছীহত করে বুঝালেন এবং জানালেন যে, দুনিয়ার শাস্তি আখিরাতের আযাবের তুলনায় সহজতর। সে বলল, না, ঐ সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন। আমি আমার স্ত্রী সম্পর্কে মিথ্যা বলিনি। এরপর তিনি মহিলাটির দিকে ফিরলেন এবং তাকে নসীহত করলেন ও উপদেশ দিলেন। আর তাকে জানালেন, দুনিয়ার শাস্তি আখিরাতের আযাবের তুলনায় সহজতর। মহিলাটি বলল, না, ঐ সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্য সহ প্রেরণ করেছেন। সে সত্য বলেনি। রাবী বলেন অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষটিকে দিয়ে শুরু করলেন। সে চারবার আল্লাহর কসম করে সাক্ষ্য দিল যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী। পঞ্চমবারে বলল, সে যদি মিথ্যাবাদী হয় তবে তার উপর আল্লাহর লা’নত। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাটির প্রতি ফিরলেন। মহিলাটিও চারবার আল্লাহর কসম করে সাক্ষ্য দিল যে, পুরুষটি মিথ্যা বলেছে। পঞ্চমবারে বলল, পুরুষটি যদি সত্যবাদী হয়ে থাকে তবে তার নিজের উপর আল্লাহর গযব নেমে আসবে। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়কে বিচ্ছিন্ন করে দিলেন।