তিরমিযী শরীফ - হাদীস নং ২,৪৬৩
তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (জানাযার) সালাতে দাঁড়ালেন। এমন সময় কিছু লোককে হাসাহাসি করতে দেখতে পেলেন। তখন তিনি বললেন, শোন, তোমরা যদি স্বাদ বিনষ্টকারী বিষয়টির বেশী আলোচনা করতে তবে তোমাদের যে অবস্থা দেখছি তা থেকে তোমাদের বিরত রাখত। (দুনিয়ার) স্বাদ বিনষ্টকারী বিষয় মৃত্যুর কথা বেশী স্মরণ রাখবে। কেননা এমন কোন দিন যায় না যে কবর এ কথা না বলেঃ আমি অপরিচিতদের ঘর, আমি একাকী থাকার ঘর, আমি মাটির ঘর, আমি পোকা-মাকড়ের ঘর। যখন কোন মু’মিন বান্দাকে দাফন করা হয় তখন কবর তাকে বলে ধন্যবাদ তোমার, আপনজনের মাঝে এসেছ তুমি। শোন আমার পৃষ্ঠে যারা চলা-ফেরা করত তাদের মাঝে তুমিই ছিলে আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়, আজ যখন তুমি আমার তত্ত্বাবধানে এসেছ এবং আমারই তুমি হয়ে গেছ তখন তোমার সঙ্গে আমি কি আচরণ করি তা অচিরেই তুমি দেখতে পাবে। এরপর দৃষ্টি যতদুর যায় ততদুর পর্যন্ত কবর তার জন্য বিস্তৃত হয়ে যায় এবং জান্নাতের দিকে তার একটি দরজা খুলে দেওয়া হয়। আর যখন কোন কাফির বদকার বান্দাকে দাফন করা হয় তাকে কবর বলেঃ তোমার জন্য কোন মারহাবা নেই, তুমি তোমার আপন জনের কাছে পৌছ নাই। আমার পিঠে যারা বিচরণ করত তাদের মাঝে তুমিই ছিলে আমার কাছে সবচেয়ে ঘৃণ্য। আজ যখন তুমি আমার কবজায় এসেছ এবং আমার কাছেই চলে এসেছ তখন তোমার সঙ্গে আমার কি ব্যবহার হবে তা অচিরেই দেখতে পাবে। এরপর কবর তার উপর চেপে যায় ফলে তার পাজরের হাড্ডিগুলি একটি আরেকটির ভেতর ঢুকে পড়ে। আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ এ স্থানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এক হাতের আঙ্গুল আরেক হাতের আঙ্গুলে ঢুকিয়ে ইশারা করে দেখালেন। তিনি বলেনঃ তার উপর সত্তরটি বিরাট সাপ নিযুক্ত করে দেওয়া হয়। এর একটিও যদি দুনিয়ায় ঢুস দেয় তবে দুনিয়া যতদিন বাকী থাকবে ততদিনও আর তাতে কিছু উৎপাদিত হবে না। হিসাব-নিকাশের দিন পর্যন্ত এ সাপগুলি তাকে কামড়াতে থাকবে। খামচাতে থাকবে। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কবর তো হল জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান কিংবা জাহান্নামের গহ্বর সমূহের একটি গহ্বর।