তিরমিযী শরীফ - হাদীস নং ২,৫৫১
তিনি একদিন আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে আবূ হুরায়রা (রাঃ) বললেনঃ আল্লাহুর কাছে দো’আ করি তিনি যেন আমাকে এবং তোমাকে জান্নাতের বাজারে একত্রিত করেন। সাঈদ বললেনঃ সেখানে কি বাজারও হবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে অবহিত করেছেন যে, জান্নাতীগণ জান্নাতে দাখিল হওয়ার পর নিজ নিজ আমলের আধিক্য অনুসারে বাসস্থানে অবতরণ করবে। পরে দুনিয়ার দিন হিসাবে প্রতি জুমু’আ বারের পরিমাণনুসারে তাদের (যিয়ারতের) অনুমতি দেওয়া হবে, তারা তাদের পরওয়ারদিগারের যিয়ারতে আসবে। তাদের জন্য তাঁর ’আরশ প্রকাশ করা হবে, জান্নাতের উদ্যানসমূহের একটিতে তাদের সমক্ষে পরওয়ারদিগারের তাজাল্লীর প্রকাশ ঘটবে। তাদের জন্য নূরের মিম্বর, মোতির মিম্বর, ইয়াকুতের মিম্বর, যাবারজাদের মিম্বর, স্বর্ণের মিম্বর, রূপার মিম্বর স্থাপন করা হবে। তাদের সবচেয়ে’ কম দরজার যিনি- তিনিও মিশক আম্বর ও কাফূরের স্তুপে উপবেশন করবেন। তবে জান্নাতের কেউ-ই হীন নন। সিংহাসন ওয়ালাদেরকে তারা নিজেদের চেয়ে আসনের দিক দিয়ে অধিক মর্যাদাবান বলে ভাববে না। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি আমাদের পরওয়ারদিগারের দর্শন পাব? তিনি বললেনঃ হ্যা। সূর্য বা পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে কি তোমাদের মাঝে কোন সন্দেহহের সৃষ্টি হয়? আমরা বললামঃ না। তিনি বললেনঃ তেমনিভাবে তোমাদের পরওয়ারদিগারের দীদারেও কোন সন্দেহ ঘটবে না। ঐ মজলিসে এমন কোন ব্যক্তি বাকী থাকবে না যার সঙ্গে আল্লাহ্ তা’আলার কথোপকথন না হবে। এমনকি তাদের জনৈক ব্যক্তিকে তিনি বললেনঃ হে অমুকের ছেলে অমুক, অমুক দিন তুমি অমুক অমুক কথা বলেছিলে তা কি মনে পড়ে? দুনিয়ার যিন্দিগীর কিছু অপরাধমূলক আচরণের কথা তাকে তিনি স্মরণ করিয়ে দিবেন। তখন সেই ব্যক্তি বলবেঃ হে রব, আপনি আমাকে ক্ষমা করে দেন নাই কি? তিনি বললেনঃ অবশ্যই আমার উদার মাগফিরাতের বদৌলতেই তো তুমি এই অবস্থানে এসে পৌঁছেছ। এই অবস্থায় হঠাৎ তাদের উপর দিয়ে এক খন্ড মেঘ এসে তাদের ঢেকে ফেলবে। সেই মেঘ থেকে তাদের উপর সুগন্ধি বারি বর্ষিত হবে। এমন সুগন্ধ তারা কোন দিন কিছুতে পায় নাই। আমাদের রব বলবেনঃ তোমাদের সম্মানে মেহমানদারীতে যা আমি তোমাদের জন্য তৈরী করেছি সে দিকে উঠে এস এবং যা মন চায় তা তুলে নাও। আমরা তখন বেহেশতী বিপণিতে আসব। ফিরিশতারা তা ঘিরে রাখবেন। তাতে এমন সব জিনিস থাকবে চক্ষু সেইরূপ কিছু দেখেনি কোন দিন, কান কোন দিন যা শোনেনি, মনে কোন ধারণাও হয়নি। আমাদের যা যা মন চাইবে সবই তুলে দেওয়া হবে আমাদের। সেখানে কেনাবেচা হবে না কিছুর। এই বিপণি বিতানেই জান্নাতীদের পরস্পর সাক্ষাৎ হবে। তিনি আরো বলেনঃ একজন উচ্চ মর্যাদার অধিকারী জান্নাতী ব্যক্তির হয়ত তার চেয়ে নিম্ন স্তরের কোন জান্নাতীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে। জান্নাতীদের মধ্যে অবশ্য নিকৃষ্ট কেউ নেই। তখন তার গায়ের পোষাক-পরিচ্ছদ দেখে সে বিহ্বল হয়ে যাবে। অপরজন তার কথা শেষ করতেও পারবে না; এদিকে তার ধারণা হবে যা, তারটিই অধিক সুন্দর। কেননা, সেখানে কারো দুঃখিত হওয়ার অবাকশ নেই। এরপর আমরা নিজ নিজ আবাসে ফিরে আসব। স্ত্রীগণ এসে অভ্যর্থনা জানাবে। বলবে, মারহাবা ওয়া আহলান- স্বাগতম শুভেচ্ছা। আমাদের নিকট থেকে যখন গিয়েছিলেন সে সময়ের তুলনায় এখন আপনারা আরো সুন্দর হয়ে ফিরে এসেছেন। তখন আমরা বলব, আমরা তো আজ মহাপরাক্রমশালী আমাদের প্রভুর মজলিসে বসেছি। তাই যেরূপে ফিরে এসেছি সেরূপে ফিরে আসাই তো আমাদের জন্য স্বাভাবিক।