আবু দাউদ শরীফ - হাদীস নং ১,১৭৩
তিনি বলেন, লোকেরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে অনাবৃষ্টির অভিযোগ পেশ করে। তখন তিনি ময়দানে মিম্বর স্থাপনের নির্দেশ দিলে তা স্থাপিত হয়। তিনি দিন ক্ষণ ঠিক করে সকলের নিকট থেকে ময়দানে যাওয়ার ওয়াদা নেন। আয়েশা বলেন, সেদিন সূর্য উঠা আরম্ভ হতেই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ময়দানে গিয়ে উক্ত মিম্বরে আরোহণ করে সর্বপ্রথম তাকবীর বলেন, অতঃপর মহান আল্লাহ্র প্রশংসা করেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ তোমরা সময়মত বৃষ্টিপাত না হওয়ার কারনে দুর্ভিক্ষের অভিযোগ করেছ। অথচ আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন ঘোষণা দিয়েছেনঃ 'যদি তোমরা তাঁর নিকট দু’আ কর, তবে তিনি তা কবুল করবেন'। অতঃপর তিনি বলেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য, যিনি সমস্ত বিশ্বজগতের রব। তিনি পরম দাতা মেহেরবান, কিয়ামতের দিনের একচ্ছত্র অধিপতি। তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নাই। তিনি যা ইচ্ছা তাই করেন। ইয়া আল্লাহ্! তুমিই আল্লাহ্। তুমি ছাড়া আর কেউ স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় এবং আমরা ফকির। তুমি আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ কর এবং তার সাহায্যে সবসময় খাদ্যশস্য উৎপাদনের ব্যবস্থা কর। অতঃপর তিনি উভয় হাত এত উপরে উত্তোলন করেন যে, তাঁর বগলের সাদা অংশ দৃষ্টিগোচর হয়। অতঃপর তিনি লোকদের প্রতি পীঠ ফিরিয়ে স্বীয় চাদর মুবারক উল্টিয়ে দেন এবং ঐ সময়য়ও তাঁর হাত উপরে ছিল। অবশেষে তিনি লোকদের দিকে ফিরে মিম্বর হতে অবতরনের পর দুই রাকাত নামায আদায় করলেন। এই সময় আল্লাহ্ তাআলা আকাশে মেঘের সঞ্চার করেন এবং তার গর্জন ও ঘনঘটা শুরু হয়ে যায়। অতঃপর আল্লাহ্র হুকুমে এমন বৃষ্টিপাত হতে থাকে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে নববীতে আসার পূর্বে সমস্ত এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। অতঃপর তিনি যখন তাদেরকে আদ্রতা হতে আত্মরক্ষার জন্য ব্যাস্ত-সমস্ত হতে দেখেন, তখন এমন ভাবে হেসে দেন যে, তাঁর সামনের পাটির দাঁত দৃষ্টিগোচর হয়। অতঃপর তিনি বলেনঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ তা’আলা সব কিছুর উপর অধিক ক্ষমতাবান এবং আমি আল্লাহ্র বান্দা ও রাসুল।