আবু দাউদ শরীফ - হাদীস নং ২,৪১৭
তিনি বলেন, একদা জনৈক ব্যক্তি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসা করে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কিরূপে রোযা রাখেন? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতে রাগান্বিত হন। এরপর উমার (রাঃ) বলেন, আমরা রব হিসাবে আল্লাহকে, দীন হিসাবে ইসলাম এবং নবী হিসাবে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এ সন্তুষ্ট। আর আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় পার্থনা করছি, আল্লাহর গযব ও তাঁর রাসূলের গযব হতে। উমার (রাঃ) পনঃপুনঃ এরূপ বলতে থাকাতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ক্রোধ নিবারিত হয়। তখন তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ঐ ব্যক্তি কিরূপ, যে সারা বছর রোযা রাখে? তিনি বলেন, সে যেন রোযা রাখল না এবং ইফতারও করল না। মুসাদ্দাদ (রহঃ) বলেন, সে যেন রোযাও রাখেনি এবং ইফতারও করেনি। রাবী গায়লান সন্দেহবশত এরূপ বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি (উমার) জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? যে দুইদিন রোযা রাখে এবং একদিন ইফতার করে? তিনি বলেন, কেউ কি এরূপ করতে সক্ষম? উমার (রাঃ) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ঐ ব্যক্তি কিরূপ, যে একদিন রোযা রাখে এবং একদিন ইফতার করে? তিনি বলেন, তা দাঊদ (আঃ) এর রোযার অনুরূপ। এরপর উমার জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ঐ ব্যক্তি কিরূপ, যে একদিন রোযা রাখে এবং দু’দিন ইফতার করে? তিনি বলেন, আমি এটাই পছন্দ করি, যদি আমাকে ক্ষমতা দেয়া হয়। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, প্রতি মাসে তিনদিন করে এক রামাযান হতে অন্য রামাযান পর্যন্ত রোযা রাখা, ইহাই সারা বছর রোযা রাখার সমতুল্য। আর আরাফার রোযা, আমি আল্লাহ নিকট এরূপ প্রত্যাশা করি যে, এর বিনিময়ে তিনি পূর্ববর্তী এক বছর এবং পরবর্তী এক বছরের যাবতীয় গুনাহ্ মার্জনা করে দিবেন। আর আশুরার রোযা, আমি আল্লাহ নিকট এরূপ প্রত্যাশা করি যে, তিনি এর বিনিময়ে পূর্ববর্তী এক বছরের যাবতীয় গুনাহ্ মার্জনা করে দিবেন।