আবু দাউদ শরীফ - হাদীস নং ৩,২৭৯
তিনি বলেনঃ আযবা উটনীটি ছিল বনূ ’আকীলের’ জনৈক ব্যক্তির, যেটি হাজীদের কাফিলার আগে আগে চলতো। রাবী বলেনঃ একবার সে ব্যক্তিকে বন্দী করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আনা হয় এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সময় তাঁর গাধার পিঠে চাদর জড়িয়ে বসে ছিলেন। তখন সে বলেঃ হে মুহাম্মদ! তুমি আমাকে এবং হাজীদের কাফিলার আগে গমনকারী এ উটকে কেন পাকড়াও করলে? তখন তিনি বলেনঃ আমি তোমাকে তোমাদের বন্ধু গোত্র ছাকীফের অপরাধের কারণে গ্রেফতার করেছি। রাবী বলেনঃ ছাকীফ গোত্রের অপরাধ ছিল যে, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু’জন সাহাবীকে বন্দী করে রেখেছিল। রাবী বলেনঃ সে তার কথাবার্তার মাঝে এরূপ বলছিল যে, আমি তো মুসলিম, অথবা আমি মুসলিম হয়ে গেছি। অতঃপর তিনি যখন একটু দূরে সরে যান, তখন সে উচ্চস্বরে বলেঃ হে মুহাম্মদ, হে মুহাম্মদ! রাবী বলেনঃ যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুগ্রহকারী ও মেহেরবান ছিলেন, সে জন্য তিনি ফিরে এসে বলেনঃ তোমার ব্যাপার কি? সে বলেঃ আমি মুসলিম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যদি তুমি সে সময় একথা বলতে, যখন তুমি স্বাধীন বা মুক্ত ছিলে, তবে তুমি সম্পূর্ণরূপে মুক্তি পেতে। আবূ দাঊদ বলেনঃ অতঃপর আমি রাবী সুলায়মান হতে বর্ণিত হাদীছ বর্ণনা করব। (তা হলো,) তখন সে বলেঃ হে মুহাম্মদ! আমি ক্ষুধার্ত, তুমি আমাকে খাবার দাও। আমি পিপাসার্ত, তুমি আমাকে পানি পান করাও। রাবী বলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেন যে, এটাই হলো তোমার আসল মাকসূদ। অথবা তিনি বলেনঃ এটাই তার আসল ইচ্ছা। রাবী বলেনঃ এরপর সে ব্যক্তিকে দু’জন সাহাবীর মুক্তিপণ হিসাবে ছেড়ে দেওয়া হয়। রাবী ইমরান বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে আযবা উটনীকে নিজের বাহন স্বরূপ রেখে দেন। রাবী বলেনঃ এ সময় একবার মুশরিকরা মদীনার উপকণ্ঠে হামলা চালিয়ে আযবা উটনীকে (চুরি করে) নিয়ে যায়। তারা ফিরে যাওয়ার সময় একজন মুসলিম নারীকে বন্দী করে নিয়ে যায়। রাবী বলেনঃ তারা তাদের উটগুলিকে রাতের বেলায় একটি ময়দানে ছেড়ে রাখত। রাবী বলেনঃ তারা এক রাতে ঘুমিয়ে থাকলে সে মহিলা দাঁড়ায় (যাতে পালিয়ে যেতে পারে)। কিন্তু যখনই সে কোন উটের নিকট গেল, সে শোরগোল বাধিয়ে দিল। অবশেষে সে মহিলা আযবা উটনীর কাছে আসে। রাবী বলেনঃ সে মহিলা একটি দ্রুতগামী শক্তিশালী উটের নিকট আসে। তখন সে তার উপর সওয়ার হয়ে এরূপ মানত করে যে, যদি আল্লাহ্ তাকে নাজাত দেন, তবে সে আযবা উটনীকে কুরবানী করবে। রাবী বলেনঃ অতঃপর সে মহিলা যখন মদীনায় পৌছে, তখন সে উটনীকে চিনতে পারা যায় যে, সেটি ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উষ্ট্রী। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ খবর দেওয়া হয়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে মহিলাকে ডেকে পাঠান। তখন সে মহিলা সে উটনী নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হয় এবং তার মানত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তখন তিনি বলেনঃ তুমি উটনীটিকে খারাপ প্রতিদান দিতে চেয়েছ। আল্লাহ্ তা’আলা এর কারণে তোমাকে নাজাত দিয়েছেন, অথচ তুমি তাকে কুরবানী করার মানত করেছ! এমন মানত পূরণ করার প্রয়োজন নেই, যা আল্লাহ্র নাফরমানীর জন্য করা হয় এবং বনূ আদম যার মালিক নয়। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেনঃ এ মহিলা ছিলেন আবূ যার -এর স্ত্রী।