মুসলিম শরীফ - হাদীস নং ২,০২০
দাঊদ ইবনু রুশায়দ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু আবূ মুলায়কা (রহঃ) বলেন, আমি ইবনু উমর (রাঃ) এর পাশে বসা ছিলাম। আমরা উসমান (রাঃ) এর কন্যা উম্মে আবান বিনতে উসমানের জানাযার অপেক্ষা করছিলাম। তার নিকট উসমান (রাঃ) এর পুত্র আমরও বসা ছিলেন। তখন এক ব্যাক্তি ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে হাতে ধরে নিয়ে আসলেন। আমার মনে হয় তাঁকে ইবনু উমর (রাঃ) এর অবস্থান সম্পর্কে বলা হয়েছিল। তিনি এসে আমার পাশে বসলেন, আমি তাদের দু’জনের মধ্যে ছিলাম। হঠাৎ গৃহ হতে (কান্নার) আওয়াজ আসল, তখন ইবনু উমর (রাঃ), তিনি যেন আমরকে ইঙ্গিত করে নিষেধ করতে বললেন। তিনি উঠে গিয়ে তাদেরকে নিষেধ করলেন এবং ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি মৃত ব্যাক্তিকে আযাব দেয়া হয় তার পরিবারবর্গের মাতম বিলাপের কারণে। ইবনু উমর (রাঃ) আয়িশা (রাঃ) এর ন্যায় বলেননি যে, এ কথাটি বিশেষ করে ইয়াহুদি সম্পর্কে। তখন ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমরা আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এর সঙ্গে ছিলাম। যখন আমরা বায়দা নামক স্থানে পৌছলাম তখন দেখতে পেলাম, এক ব্যাক্তি বৃক্ষের ছায়ায় অবতরণ করে বিশ্রাম করছে। তিনি আমাকে বললেন, তুমি আমার পক্ষ হতে গিয়ে জেনে এসো ঐ ব্যাক্তি কে? আমি গিয়ে জানতে পারলাম ঐ ব্যাক্তি সুহায়ব (রাঃ)। আমি তাঁর নিকট এসে বললাম আপনি আমাকে আদেশ করেছিলেন, জেনে আসার জন্য আমি জেনে এসেছি ঐ ব্যাক্তি কে? ঐ ব্যাক্তি সূহায়ব। তিনি বললেন তাকে বল, আমাদের সঙ্গে মিলিত হতে। আমি বললাম, তার সাথে তাঁর পরিবার রয়েছেন। তিনি বললেন, থাকুক না পরিবারসহ আসতে বল। কখনো আয়্যুব বলেছেন, তাকে আমার সাথে সাক্ষাৎ করতে আদেশ কর। যখন আমরা মদিনায় পৌঁছলাম, তার কিছু কাল পরেই আমীরুল মুমিনীন (রাঃ) আক্রান্ত হলেন। সুহায়ব (রাঃ) আসলেন এবং -ওয়া আখাহ (হে ভাই) ওয়া সাবিহা (হে আমাদের সাথী), বলে চীৎকার করতে লাগলেন। উমর (রাঃ) বললেন, তুমি কি জানো নি, তুমি কি শোনোনি? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত ব্যাক্তিকে তার পরিবারবর্গের কোন কোন কান্নাকাটির কারণে আযাব দেয়া হয়। রাবী বলেন, আবদুল্লাহ কিন্তু শর্তহীনভাবে বলেছেন, শুধু ইয়াহুদীদের জন্য এ হুকুম তা যুক্ত করে বলেন নি। আর উমর (রাঃ) বলেছেন, কোন কোন কান্না! তখন আমি উঠে আয়িশা (রাঃ) এর নিকট গমন করলাম এবং ইবনু উমর (রাঃ) যা বললেন, সে সম্পর্কে তাকে অবহিত করলাম। আয়িশা (রাঃ) বললেন, না না আল্লাহর কসম! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা কখনো বলেন নি যে, মৃত ব্যাক্তিকে কান্নাকাটির কারণে শাস্তি দেয়া হবে। বরং তিনি বলেছেন, কাফিরের উপর আল্লাহ শাস্তি বৃদ্ধি করে দেন তার পরিবাবর্গের বিলাপের কারণে। আল্লাহ তা’আলাই হাসি কান্না দিয়ে থাকেন। একজনের পাপের বোঝা আরেক জনের ঘাড়ে চাপিয়ে দেন না। আয়িশা (রাঃ) এর নিকট যখন উমর ও ইবনু উমর (রাঃ) এর বক্তব্য পৌছলো, তখন তিনি বললেন, তোমরা এমন দু’ ব্যাক্তি হতে হাদীস বর্ণনা করছ যারা মিথ্যা বলেননা এবং তাদের প্রতি মিথ্যা আরোপ করা যায় না। কিন্তু শ্রুতিতে ভুল হতে পারে।