মুসলিম শরীফ - হাদীস নং ২,৭৮৫
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) বলেন, বিদায় হাজ্জের (হজ্জ) বছর যিলহাজ্জ মাসের নতুন চাঁদ উদয়ের প্রাক্কালে আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে (মক্কা) রওনা হলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যাক্তি উমরার ইহরাম বাঁধতে চায়, সে তা করতে পারে। আমার সঙ্গে হাদী বা কুরবানীর পশু না থাকলে আমি উমরার ইহরাম বাধতাম। আয়িশা (রাঃ) বলেন, লোকদের মধ্যে কতক উমরার ইহরাম বাঁধল এবং কতক হাজ্জের (হজ্জ) ইহরাম বাঁধল। তিনি বললেন, আমি উমরার উদ্দেশ্যে ইহরামকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। আমরা রওনা হলাম, অতঃপর মক্কায় পৌঁছে গেলাম। আরাফাত দিবস পর্যন্ত আমার মাসিক ঋতু অব্যাহত ছিল এবং উমরা করে ইহরাম খোলার সুযোগ পেলাম না। এ সংকটের বিষয়ে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অবহিত করলে তিনি বললেন, তুমি তোমার উমরা পরিত্যাগ কর, চুলের বাঁধন খুলে ফেল এবং তাতে চিরুনী কর আর হাজ্জের (হজ্জ) জন্য ইহরাম বাঁধ। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি তাই করলাম। অতঃপর যখন মুহাসসাবের রাত এল এবং আল্লাহ তাআলা আমাদের হাজ্জ (হজ্জ) সমাপন করার তৌফিক দিলেন, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সাথে আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ) কে পাঠালেন এবং তিনি আমাকে তার বাহনের পেছনে বসিয়ে তানঈমে রওনা হলেন। অতঃপর আমি উমরার ইহরাম বাঁধলাম। এভাবে আল্লাহ তায়ালা আমাদের হাজ্জ (হজ্জ) ও উমরা সমাপনের তৌফিক দান করলেন। তাতে কোন হাদী (কুরবানী), সদকা বা সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) কোনটই পালন করতে হয়নি।