মুসলিম শরীফ - হাদীস নং ৩,৫৯১
তিনি বলেন, যায়নাব বিনত আবূ সালামা (রাঃ) তাকে এই তিনটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি (হুমায়দ ইবনু নাফি) বলেন, ১. যায়নাব (রাঃ) বলেছেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিনী উম্মু হাবীবা (রাঃ) এর পিতা আবূ সুফিয়ান ইন্তেকাল করেন তখন আমি তাঁর কাছে গেলাম। আমি দেখতে পেলাম যে, উম্মু হাবীবা (রাঃ) হলদে বর্ণের মিশ্রিত সুগন্ধি আনালেন অথবা অন্য কোন প্রসাধনী চেয়ে পাঠালেন। এরপর তা থেকে একটি বালিকাকে নিজ হাতে লাগিয়ে দিলেন। এরপর তিনি তার দুই কপালে হাত মুছে নিলেন। এরপর তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আমার সুগন্ধি ব্যবহারের কোন প্রয়োজন ছিলনা। তবে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি যে, যে মহিলা আল্লাহ ও পরকালে ঈমান রাখে, সে মহিলার জন্য তার কোন আত্নীয়ের মৃত্যুতে তিন দিনের বেশী শোক পালন করা হালাল নয়। তবে বিধবা স্ত্রী তার স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশদিন শোক পালন করবে। ২. যায়নাব (রাঃ) বলেন, এরপর আমি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী) যায়নাব বিনত জাহাশ (রাঃ) এর কাছে গেলাম। সে সময় তার ভাই ইন্তেকাল করেছিলেন। আমি দেখলাম, তিনিও সুগন্ধি চেয়ে পাঠালেন এবং তার থেকে স্পর্শ করলেন। এরপর বললেন, আল্লাহর কসম! আমার সুগন্ধি ব্যবহারের কোন প্রয়োজন ছিল না তবে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি যে, যে মহিলা আল্লাহ ও আখিরাতে ঈমান রাখে তার জন্য মৃত ব্যক্তির জন্য তিনদিনের অধিক শোক পালন করা হালাল নয়। তবে স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশদিন শোক পালন করবে। ৩. এরপর যায়নাব (রাঃ) বলেন, আমি আমার মা উম্মু সালামা (রাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, একবার এক মহিলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার কন্যাকে রেখে তার স্বামী ইন্তেকাল করেছেন। তার (শোক পালন করতে গিয়ে) চোখে অসুখ হয়েছে। এ অবস্থায় আমরা কি তার চোখে সুরমা ব্যাবহার করতে পারি? তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না। এরপর সে দুই কি তিনবার জিজ্ঞাসা করল। প্রতিবারই তিনি বললেন, না। এরপর তিনি বললেন, তার ইদ্দত তো চার মাস দশদিন। অথচ জাহিলী যুগে তোমাদের একজন মহিলা বছরান্তে উটের বিষ্ঠা নিক্ষেপ করত। হুমায়দ বলেন, আমি যায়নাবকে বললাম, এ বছরান্তে উটের বিষ্ঠা নিক্ষেপ করার তাৎপর্য কি? যায়নাব (রাঃ) বললেন, সেকালে কোন স্বামী ইন্তেকাল করলে তাকে একটি সংকীর্ণ কক্ষে (কুঠূরিতে) প্রবেশ করতে হত। ছিড়ে-ফাড়া কাপড় চোপড় পরিধান করতে হত। সে কোন প্রসাধনী দ্রব্য স্পর্শ করতে পারত না কিংবা অন্য কোন সুগন্ধি ইত্যাদি ব্যবহার করত না। এমনিভাবে একটি বছর কেটে যেত। এরপর তার সামনে আনা হত গাধা বকরী কিংবা পাখী জাতীয় কোন প্রানী এবং সে ঐ প্রানীকে স্পর্শ করে ইদ্দত পূর্ণ করত। সে যে প্রানীকে স্পর্শ করত তা খুব কমই বাঁচত। এরপর সে ঐ সংকীর্ণ থেকে বের হয়ে আসত। তখন তার হাতে উটের বিষ্ঠা দেওয়া হত এবং সে তা মারত। এরপর সে তার পছন্দসই প্রসাধনী সুগন্ধি ইত্যাদি ব্যবহারের প্রতি মনযোগী হত।