মুসলিম শরীফ - হাদীস নং ৪,৪২৫
মালিক ইবনু আউস (রাঃ) তাঁকে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) আমাকে ডেকে পাঠালেন। বেলা উঠে গেলে আমি তাঁর নিকট এলাম। তখন আমি তাকে তার বাসস্থানে খাটের উপর বসা অবস্থায় পেলাম। তাতে চাটাই ছাড়া আর কোন বিছানা ছিলনা। তিনি চামড়ার একটি বালিশের উপর হেলান দিয়ে ছিলেন। তখন তিনি আমাকে বললেন, হে মালু! (অর্থাৎ হে মালিক)। হঠাৎ তোমার সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবারের লোকজন আমার কাছে এলো, আমি তাদেরকে কিছু দেওয়ার মনস্থ করেছি। তুমি তা গ্রহণ কর এবং তাদের মধ্যে বণ্টন করে দাও। আমি বললাম, আপনি যদি এর নির্দেশ আমাকে ব্যতীত অন্য কাউকে দিতেন, (তা হলে ভালো হতো)। তখন তিনি বললেন, হে মালু (অর্থাৎ হে মালিক), তুমি তা গ্রহণ কর। এমন সময় ইয়ারফা (রহঃ) তাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে বলল, হে আমীরুল মুমিনীন! আপনার সাক্ষাতের অপেক্ষায় আছেন উসমান, আবদুর রহমান ইবনু আউফ, যুবাইর এবং সা’দ। তখন উমর (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ তাদেরকে আসতে দাও। তখন সকলেই প্রবেশ করলেন। এরপর পূনরায় ইয়ারফা আগমন করলো এবং বলল, আব্বাস এবং আলী (রাঃ) আপনার সাক্ষাতের অপেক্ষায় আছেন। তখন তিনি বললেন, হ্যাঁ তাদেরকেও আসতে দাও। এরপর আব্বাস (রাঃ) বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! আমার মধ্যে এবং এই মিথ্যাবাদী, পাপী, প্রতারক ও বিশ্বাসঘাতকের মধ্যে মীমাংসা করে দিন। তখন লোকেরা বললো, হ্যাঁ- হে আমীরুল মু’মিনীন! তাদের মধ্যে বিযয়টি নিষ্পত্তি করে দিন এবং তাদের নিস্কৃতি দিন। (মালিক ইবনু আউস (রাঃ) বললেন, আমার ধারণা হল যে, তারা দু’জন অর্থাৎ আলী এবং আব্বাস (রাঃ) তাদেরকে পূর্বাহ্নে পাঠিয়ে ছিলেন এ ব্যাপারটির জন্যেই, যেন তাঁরা উমর (রাঃ) কে ব্যপারটি বুঝিয়ে নিষ্পত্তি করে দেন।) উমার (রাঃ) বললেন, আপনারা একটু অপেক্ষা করুন। আমি আপনাদের সে মহান আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, যার আদেশে আকাশ এবং পৃথিবী যথাস্থানে অবস্থিত। আপনাদের কি জানা নেই যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ [আমরা (নবীগণ) কাউকে ওয়ারিস বানিয়ে যাই না], আমরা যা রেখে যাই তা হবে সাদাকা। তখন তারা বললেন, হ্যাঁ, আমরা তা জানি। এবার তিনি আলী এবং আব্বাস (রাঃ) এর দিকে লক্ষ্য করে বললেন, আমি আপনাদের উভয়কে সে মহান আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, যার নির্দেশে আকাশ এবং পৃথিবী যথাস্থানে অবস্হিত। আপনারা কি অবগত নন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ [আমরা (নবী (সম্প্রদায়) কাউকে উত্তরাধিকার করে যাই না।] আমরা যা রেখে যাই, তা হবে সাদাকা। তখন তারা উভয়েই বললেন, হ্যা। আমরা তা জানি। তখন উমর (রাঃ) বললেন, আল্লাহ তা-আলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কিছু বৈশিষ্ট্য প্রদান করেছেন, যা তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে প্রদান করেননি। তিনি বলেন, 'আল্লাহ তায়ালা জনপদবাসীর নিকট থেকে তার রাসূলকে যা প্রদান করেছেন- তা আল্লাহ ও তার রাসূলের জন্য নির্দিষ্ট।' আমার জানা নেই যে, এ পঠিত আয়াতের পুর্বেও কোন আয়াত পাঠ করেছিলেন কিনা? অতঃপর উমর (রাঃ) বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো তোমাদেরকে বনী নাযীর গোত্র থেকে প্রাপ্ত সস্পদ বল্টন করে দিয়েছেন। আল্লাহর শপথ! তিনি সম্পদকে নিজের জন্য সংরক্ষিত- করে যাননি। আর তিনি এমনও করেননি যে, নিজে সম্পদ নিয়েছেন এবং তোমাদেরকে তা দেননি। পরিশেষে যে সম্পদ রইল তা থেকে আপন পরিবারের এক বছরের ভরণ পোষণের খরচ রেখে অবশিষ্ট সম্পদ বায়তুল মালে জমা দেন। এরপর উমর (রাঃ) বললেনঃ, আপনাদেরকে সে মহান আল্লাহর কসম করে বলছি, যার নির্দেশে আকাশ ও পৃথিবী যথাস্থানে অবস্থান। আপনারা কি সে সব কথা অবগত আছেন। তখন তারা বলেন, হ্যাঁ, আমরা তা জানি। এরপর তিনি আব্বাস এবং আলী (রাঃ) উভয়কে অনুরূপ শপথ প্রদান করলেন, যেরূপ তিনি ইতিপুর্বে আগত সম্প্রদায়ের লোকদেরকে প্রদান করেছিলেন। তিনি বললেন, আপনারা উভয়ই কি এসব কথা জানেন? তখন তাঁরা বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর উমর-(রাঃ) বললেন, যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তেকাল হল তখন আবূ বকর (রাঃ) বললেন যে, আমিই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওয়ালী। আর আপনারা উভয়েই এসেছিলেন, আপনি আপনার ভাতিজা থেকে মীরাস দাবী করতে। আর ইনি এসেছেন, তার স্ত্রী (ফাতেমার) পিতা থেকে মীরাস গ্রহণ করতে। এরপর আবূ বকর (রাঃ) বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (আমাদের নবীগণের) সম্পত্তিতে কোন মিরাস-বন্টন নেই। আমরা যা পরিত্যাগ করে যাই তা হবে সাদাকা। আপনারা উভয়েই তো তাকে মিথ্যাবাদী, অপরাধী, বিশ্বাসঘাতক এবং খিয়ানতকারী মনে করছেন। প্রকৃতপক্ষে নিশ্চয়ই তিনি [আবু বাকর সিদীক (রাঃ)] সত্যবাদী, পূণ্যবান, সত্যপথ প্রদর্শক এবং সত্যের অনুসারী ছিলেন। এরপর আবূ বকর (রাঃ) ইন্তেকাল করলেন। তখন আমি ওয়ালী হলাম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এবং আবূ বকর (রাঃ) এর ওয়ালী হলাম। সুতরাং আপনারা উভয়েই আমাকেও তার মত মিথ্যাবাদী, পাপী, বিশ্বাসঘাতক এবং খেয়ানতকারী মনে করছেন। আল্লাহ অবগত আছেন যে, নিশ্চয়ই আমি সত্যবাদী, পূণ্যবান, সত্যপথের অনুসারী এবং সত্যের অনুসারী। আমি সে সম্পদেরও অলী বা অভিভাবক। অতঃপর আপনি এবং ইনি এসেছেন। আপনারা উভয়েই এক ছিলেন এবং আপনাদের দাবীও এক ছিল। সুতরাং আপনারা বলছেন যে, এসব আমাদের কাছে দিয়ে দিন। আমি বলি-যদি আপনারা চান, তবে আমি তা আপনাদেরকে দিয়ে দেব এই শর্তে যে, আপনারা এই সম্পদ দ্বারা সে কাজ করবেন, যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করতেন। অতএব, আপনারা এ শর্তে আমার নিকট থেকে তা ’গ্রহণ করলেন। এরপর উমর (রাঃ) বললেন, আমার কথা কি যথার্থ? তখন উভয়েই বললেন, হ্যাঁ। উমর (রাঃ) বললেন, তারপরও আপনারা দু’জন আমার কাছে এসেছেন, আপনাদের মাঝে (সম্পদের) মীমাংসা করে দেয়ার জন্য। আল্লাহর কসম। আমি আপনাদের উভয়ের মাঝে এ ব্যতীত আর কোন মীমাংসা করতে পারবো না কিয়ামত পর্যন্ত। আর যদি আপনারা এতে অপারগ হন, তবে তা আপনারা আমার কাছে ফেরৎ দিন।