মুসলিম শরীফ - হাদীস নং ৪,৭৬২
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুসায়সা (রাঃ) কে আবূ সুফিয়ানের বাণিজ্যিক কাফিলার গতিবিধি লক্ষ্য করার জন্যে প্রেরণ করেন। তারপর তিনি ফিরে আসলেন। তখন আমি ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া ঘরে আর কেউই ছিলোনা। রাবী বলেন, আমি স্মরণ করতে পারছিনা, তিনি (আনাস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন সহধর্মিনীর (না থাকার) কথাও বলছেন কিনা। এরপর সে তার সঙ্গে কথা বলল। তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন এবং লেকাজনকে লক্ষ্য করে তিনি বললেনঃ আমার গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয় কাজ আছে। যার সাওয়ারী মউজুদ আছে সে যেন আমাদের সঙ্গে সাওয়ার হতে পারে। তখন কিছুলোক মদিনার উঁচু অনুকুল থেকে তাদের সাওয়ারী নিয়ে আসার অনুমতি চাইলেন। তখন তিনি বললেনঃ না, কেবল যাদের সাওয়ারী প্রস্তুত আছে তারাই যাবে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সাহাবীগণ রওয়ানা করলেন এবং মুশরিকদের পূর্বেই বদরে গিয়ে উপনীত হলেন। এর পরপরই মুশরিকরা এসে পৌছাল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের কেউ যেন কোন ব্যাপারে আমার অগ্রবর্তী না হয়, যতক্ষন না আমি তার সামনে থাকি। এরপর মুশরিকরা নিকটবর্তী হলো। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা জান্নাতের দিকে অগ্রসর হও, যার প্রশস্ততা আসমান ও যমীনের প্রশস্ততার মত। রাবী বলেন, উমায়র ইবনু হুমাম আনসারী (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! জান্নাতের প্রশস্ততা কি আসমান ও যমীনের প্রশস্ততার ন্যায়? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। উমায়র বলে উঠলেন, বাহ, বাহ, (কি চমৎকার)! তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বাহ, বাহ বলতে তোমাকে কিসে উদ্বৃদ্ধ করলো হে? তিনি বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! কিছু না! তবে আল্লাহর কসম! আমি তার অধিবাসী হওয়ার আশায়ই এরূপ বলছি। তখন তিনি বললেনঃ তুমি নিশ্চয়ই তার অধিবাসী (হবে)। রাবী বলেন, তারপর তিনি তাঁর তীরদান থেকে কয়েকটি খেজুর বের করলেন এবং তা খেতে লাগলেন। তারপর বললেন, আমি যদি এ খেজুরগুলো খেয়ে শেষ করা পর্যন্ত বেঁচে যাই তবে তাও হবে এক দীর্ঘ জীবন। রাবী বলেনঃ, তারপর তাঁর কাছে রক্ষিত খেজুরগুলো তিনি ফেলে দিলেন তারপর যুদ্ধে নেমে পড়লেন, এমন কি শেষ পর্যন্ত শহীদ হলেন।