মুসলিম শরীফ - হাদীস নং ৬,৮০৮
তিনি বলেন, আবূ জাহল বলেছিল, মুহাম্মাদ কি তার মুখমন্ডল যমীনের উপর রাখছে? লোকেরা বলল, হ্যাঁ রাখছে। তখন সে বলল, আমি লাত এবং উযযার কসম করে বলছি, আমি যদি তাকে এমন করতে দেখি তবে অবশ্যই আমি তার ঘাড় পদদলিত করবো। অথবা তার মুখমন্ডল আমি মাটিতে মেখে দিব। (নাউযুবিল্লাহ) অতঃপর একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায়ে মগ্ন ছিলেন। এমতাবস্থায় আবূ জাহল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘাড়কে পদদলিত করার লক্ষ্যে তার নিকট আসল। হঠাৎ করে লোকেরা দেখতে পেল যে, সে একা একা নিজের দু’হাত দ্বারা কোন কিছুকে প্রতিহত করা অবস্থায় পা পা করে পেছনের দিকে সরে আসছে। এ দেখে তাকে জিজ্ঞেস করা হল, তোমার কি হায়ছে? উত্তরে সে বলল, আমি দেখেছি যে, আমার এবং তাঁর মাঝে আশুণের একটি প্রকান্ড খাদক, ভয়াবহ অবস্থা এবং কতগুলো ডানা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সে যদি আমার নিকটে আসতো, তবে ফিরিশতাগণ তার অঙ্গ প্রত্যঙ্গ টুকরা টুকরা করে ছিঁড়ে নিয়ে যেতো। অতঃপর আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেন, (বর্ণনাকারী বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) এর হাদীসের মধ্যে এ কথাটি আছে, না এ মর্মে তার নিকট সংবাদ পৌছেছে, এ বিষয়টি আমার জানা নেই!) “কখনো ঠিক নয়, মানুষ তো সীমালঙ্গন করেই থাকে, কারণ সে নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করে। আপনার প্রতিপালকের নিকট প্রত্যার্বতন সুনিশ্চিত। আপনি কি তাকে দেখেদেছেন, যে বাধা দেয় এক বান্দাকে যখন সে সালাত আদায় করে? আপনি লক্ষ্য করেছেন কি, যদি সে সৎপথে থাকে অথবা তাকওয়ার নির্দেশ দেয়, আপনি লক্ষ্য করেছেন কি, যদি সে মিথ্যা আরোপ করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে সে কি জানেনা যে, আল্লাহ দেখেন? সাবধান, সে যদি বিরত না হয়, তবে আমি অবশ্যই তাকে হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাব বৈঠকীদের সম্মুখ ভাগের কেশগুচ্ছ ধরে, মিথ্যাচারী পাপিষ্ঠ কেশগুচ্ছ অতএব সে তার নাদিয়া অর্থাৎ তার সম্প্রদায়কে আহবান করুক।” উবায়দুল্লাহ (রহঃ) এর হাদিসে অধিক আছে তাকে যা আদেশ দেয়ার তা আদেশ দিলেন। (অর্থাৎ তা ছিল হুকমী।) ইবন আবদুল আলা অধিক বলেছেন,نَادِيَهُ অর্থ তার সম্প্রসারিত দলবল।