মুসলিম শরীফ - হাদীস নং ৮৩৩
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমর ইবনু আওফ গোত্রে তাদের পরস্পরের মধ্যে মীমাংসার কাজে গমন করলেন। ইত্যবসরে সালাতের ওয়াক্ত উপস্থিত হলে মু’আযযিন (আযান দিয়ে) আবূ বকর (রাঃ) এর নিকট গিয়ে বললেন, আপনি কি ইমামত করবেন? আমি ইকামত বলছি। আবূ বকর (রাঃ) বললেন -হ্যাঁ। আবূ বকর (রাঃ) সালাত পড়াচ্ছিলেন। ইতিমধ্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পিছন দিক হতে আগমন করেন এবং মানুষের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়ে সালাতের কাতারে শরীক হলেন। মুকতাদীগণ তালি বাজাতে লাগলেন। কিন্তু আবূ বকর (রাঃ) সালাতের মধ্যে অন্য কোন দিকে মনোযোগ দিতেন না। যখন মুকতাদীগণ অধিক তালি বাজাতে লাগলে তখন তিনি ফিরে তাকালেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখতে পেয়ে পিছনে হটতে চাইলেন। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশারা করে বললেন, তুমি তোমার জায়গায় দণ্ডায়মান থাক। আবূ বকর (রাঃ) দুই হাত উপরে তুলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাকে এই ইমামতির মর্যাদা প্রদানে আল্লাহর প্রশংসা জ্ঞাপন করলেন এবং পশ্চাতে হটে এসে মুকতাদীর কাতারে দাঁড়ালেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনে অগ্রসর হয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। সালাতের পর জিজ্ঞাসা করলেন, হে আবূ বকর! তুমি তোমার জায়গায় দন্ডায়মান থাকলে না কেন? আমি তো তোমাকে দণ্ডায়মান থাকতেই বলেছিলাম। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আবূ কুহাফার পূত্রের এমন দুঃসাহস নেই যে, আল্লাহর রাসূলের সামনে ইমামত করে। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মুকতাদীদের প্রতি তাকিয়ে) বললেন, কী ব্যাপার! তোমরা এত তালি বাজালে কেন? তোমাদের কারো সালাতের মধ্যে যখন কোন সমস্যা দেখা দেয়, তখন তোমরা ’সূবহানাল্লাহ’ বলবে, তোমরা ’সূবহানাল্লাহ’ বললেই ইমাম তোমাদের প্রতি মনোযোগ দিবেন। তালি বাজানোর বিধান তো নারীদের জন্য।