তিরমিযী শরীফ - হাদীস নং ২,৪৮০
তিনি বলেন, সুফফাবাসী সাহাবীগণ ছিলেন মুসলিমদের মেহমান। তাদের কোন ঘর-সংসার বা ধন-সম্পদ ছিল না। আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নাই, ক্ষুধরি জ্বালায় আমি আমার পেট মাটিতে চেপে ধরতাম; এমনিভাবে ক্ষুধার তাড়নায় আমার পেটে পাথর বাঁধতাম। সাহাবীরা যে পথ দিয়ে (মসজিদের উদ্দেশ্যে) বের হতেন তাদের সে পথে একদিন আমি বসে গেলাম। আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু আমার পাশ দিয়ে গেলেন। আমি তাঁকে আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি তাঁর সঙ্গে (তার ঘরে) আমাকে নিয়ে যাবেন এই আশা নিয়েই কেবল আমি এই আয়াতটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। কিন্তু তিনি চলে গেলেন। আমাকে সাথে নিয়ে গেলেন না। এরপর উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এই পথ দিয়ে গেলেন। তাঁকেও আমি আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। তিনি যেন আমাকে (তাঁর ঘরে) সঙ্গে নিয়ে যান এই আশা নিয়েই আমি প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি চলে গেলেন কিন্তু আমাকে সাথে নিলেন না। পরে আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমাকে দেখেই মুচকি হাসলেন। বললেনঃ আবূ হুরায়রা! আমি বললামঃ লাব্বাইকা, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেনঃ সঙ্গে চল। এরপর তিনি চলতে লাগলেন। আমিও তাঁর পেছনে পেছনে যেতে লাগলাম। তিনি তাঁর ঘরে প্রবেশ করলেন। আমিও প্রবেশ অনুমতি চাইলাম। আমাকেও প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হল। তিনি ঘরে একটি দুধের পেয়ালা পেলেন। বললেনঃ তোমাদের জন্য এই দুধ কোথা থেকে এসেছে? বলা হল অমুক ব্যক্তি আমাদের জন্য হাদিয়্যা পাঠিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেনঃ আবূ হুরায়রা! আমি বললামঃ লাব্বায়কা। তিনি বললেনঃ সুফফাবাসীদের কাছে যাও এবং তাদের ডেকে নিয়ে এস। এরা ছিলেন মুসলিমদের মেহমান। এদের কোন ঘর-সংসার বা ধন-সম্পদ ছিল না। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কিছু সাদাকা আসলে তিনি তা তাদের কাছে পাঠিয়ে দিতেন, এর থেকে নিজে কিছু গ্রহণ করতেন না। আর যদি তাঁর কাছে কিছু হাদিয়্যা আসত তবে তিনি তাদের কাছে পাঠাতেন এবং নিজেও তা থেকে কিছু গ্রহণ করতেন এবং এতে তাদেরকেও শরীক করতেন। এতে আমি মনক্ষুন্ন হলাম। মনে মনে বললাম সুফফাবাসীদের মাঝে এই এক পেয়ালায় কি হবে? আর আমি তাদের মাঝে সংবাদ বাহক হচ্ছি। সুতরাং নবীজীতো আমাকেই তাদের সামনে তা পরিবেশন করতে হুকুম দিবেন। হয়ত আমার ভাগ্যে কিছু নাও জুটতে পাপরে। অথচ আমি আশা করেছিলাম যে ক্ষুধা নিবারণের মত অংশ পাব। কিন্তু আল্লাহর আনুগত্য ও রাসূলের আনুগত্য ছাড়া কোন উপায় নেই, তাই আমি তাদের কাছে গেলাম এভং তাদেরকে ডেকে নিয়ে এলাম। তারা এসে নিজ নিজ স্থানে বসে গেল তিনি বললেনঃ আবূ হুরায়রা, পেয়ালাটি নাও এবং তাদের পরিবেশন কর। আমি পিয়ালাটি নিলাম এবং এক একজনকে তা পরিবেশন করতে লাগলাম, তিনি তা থেকে পরিতৃপ্তির সাথে পান করছিলেন এবং আমাকে তা ফিরিয়ে দিচ্ছেলেন। আমি তখন তা অপর জনকে দিচ্ছিলাম শেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে তা নিয়ে পৌঁছলাম। ইতি মধ্যে উপস্থিত পুরা সম্প্রদায় পরিতৃপ্ত হয়ে গেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেয়ালাটি নিয়ে হাতে রাখলেন এবং এরপর মাথা তুলে মুচকি হাসলেন। বললেনঃ আবূ হুরায়রা, পান কর। আমি তা পান করলাম। তিনি পুনরায় বললেনঃ আরো পান কর। আমি পান করতে থাকলাম তিনি বলতে থাকলেন ’’তুমি পান কর’’। শেষে আমি বললাম, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন সেই সত্তার কসম, আমি আর এ জন্য কোন পথ পাচ্ছি না। তিনি তখন পেয়ালাটি নিলেন, আল্লাহর হামদ করলেন এবং বিসমিল্লাহ বলে তা পান করে নিলেন।