Alhashorহাদীস সম্ভার
তি

তিরমিযী শরীফ - হাদীস নং ৩,১০২

প্রায় ৪ মিনিট · ৪৮৮ শব্দ

তিনি বলেনঃ তাবূক যুদ্ধ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যত যুদ্ধ করেছেন কোনটি থেকেই আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পেছনে পড়ে থাকিনি, বদর যুদ্ধ ব্যতীত। আর বদর যুদ্ধে যারা পেছনে পড়ে থেকেছে তাদের কাউকেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভৎসনা করেননি। সে যুদ্ধে তো তিনি মূলত (কুরায়শদের তেজারতী) কাফেলা ধরার উদ্দেশ্যে অভিযাত্রা করেছিরেন। আর কুরায়শরা তাদের কাফেলার সাহোয্যে বের হয়েছিল। তারপর পূর্ব নির্ধারিত সময় ছাড়া তারা (বদর) পরস্পর সম্মুখীন হয়। যেমন আল্লাহ্ তা’আলা উল্লেখ করেছেন। আমার জীবনের কসম, মানুষের কাছে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সর্বাধিক মর্যাদাবান যুদ্ধ হল গাযওয়ায়ে বদর। এতদসত্ত্বেও আমরা আকাবা রাত্রিতে (আনসারীরা) ইসলামের উপর যে অঙ্গীকার করেছিলাম আমার সে রায়আতের স্থলে বদরে শরীক থাকটা আমার কাছে প্রিয়তম নয়। এই বদরের পর তাবুক পর্যন্ত আর কোন গাযওয়া থেকে ই আমি পেছনে থাকি নি। তাবুক যুদ্ধ ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শেষ যুদ্ধ। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ যুদ্ধে যাত্রার জন্য ঘোষণা দিয়ে দিলেন। ...... এরপর কা’ব দীর্ঘ হাদীসটির বিবরণ দেন। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে (আমার তওবা কবুলের আয়াত নাযিল হওয়ার পর) আমি গেলাম। তিনি তখন মসজিদে উপবিষ্ট ছিলেন। মুসলিমরা ছিলেন তাঁর চতুষ্পার্শ্বে। চাঁদের মত জ্বলজ্বল করছিলেন তিনি। কোন বিষয়ে তিনি যদি আনন্দিত হতেন তবে উজ্জ্বল জ্যোতির্ময় হয়ে যেতেন তিনি। আমি এসে তাঁর সামনে বসলাম। তিনি বললেনঃ হে কা’ব ইবন মালিক! তোমার মা তোমাকে প্রসব করার পর থেকে সর্বোত্তম দিনটির জন্য তুমি সুসংবাদ গ্রহণ কর। আমি বললামঃ ইয়া নবীয়াল্লাহ্! এ সুসংবাদ কি আল্লাহর পক্ষ থেকে না আপনার পক্ষ থেকে? তিনি বললেনঃ না, এতো আল্লাহর পক্ষ থেকে। এরপর তিনি এ আয়াতগুলো তিলাওয়াত করলেনঃ لَقََدْ تَابَ اللَّهُ عَلَى النَّبِيِّ وَالْمُهَاجِرِينَ وَالأَنْصَارِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ فِي سَاعَةِ الْعُسْرَةِ *** حَتَّى بَلَغََّ اللَّهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ আল্লাহ্ অনুগ্রহ পরায়ণ হলেন নবীর প্রতি এবং মুহাজির ও আনসারদের প্রতি যারা তার অনুগমন করেছিল সংকটকালে, এমনকি যখন তাদের এক দলে চিত্তবৈকল্যের উপক্রম হয়েছিল। পরে আল্লাহ্ তাদের ক্ষমা করলেন, তিনি তাদের প্রতি দয়ার্দ্র পরম দয়ালু। (৯ঃ ১১৭) তিনি আরো বলেনঃ আমাদের বিষয়েই নাযিল হয়ঃ اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় এবং সত্যবাদীদের অন্তর্ভূক্ত হও। (৯ঃ ১১৯) আমি বললামঃ হে আল্লাহর নবী! আমার তওবার শুকরিয়া হল আমি জীবনে অসত্য বলব না এবং আমার সমস্ত সম্পদ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের পথে সাদাকাস্বরূপ দিয়ে দিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কিছু অর্থ-সম্পদ তোমার জন্য রেখে দাও। এ-ই তোমার জন্য উত্তম। আমি বললামঃ খায়বার থেকে আমি যে হিস্যা পেয়েছি তা আমার জন্য রেখে দিলাম। কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু আরো বলেনঃ আমি এবং আমার দুই সঙ্গী (তাবুক যুদ্ধে শরীক না হওয়ার বিষয়ে) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে যে সত্য কথা বলেছিলাম আমার ধারণায় ইসলাম গ্রহণের পর সে সত্য বলার চাইতে বড় কোন নেয়ামত আল্লাহ্ তা’আলা আর আমাকে দান করেন নি। আমরা মিথ্যা বলিনি যদি মিথ্যা বলতাম তবে অন্যদের মত আমরাও ধ্বংস হয়ে যেতাম। আমি আশা করি, সত্য কথা বলার জন্য আল্লাহ্ তা’আলা আর কাউকে এত পরীক্ষায় ফেলেন নি, যে পরীক্ষায় তিনি আমাকে ফেলেছিলেন। পরেও আর কখনও আমি মিথ্যার ইচ্ছাও করিনি। আশা করি অবশিষ্ট জীবনেও তিনি আমাকে হেফাজত করবেন।

ছবি বানান