তিরমিযী শরীফ - হাদীস নং ২,৯৬৫
তিনি বলেনঃ আমি আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-কে বললাম, যে ব্যক্তি সাফা ও মারওয়ার মধ্যে তওয়াফ (সাঈ) করল না এতে আমি কোন দোষ মনে কনি না, এবং এ দুটির মাঝে তাওয়াফ না করাতে আমি কোন পরোয়া করি না। তিনি বললেনঃ হে আমার ভাগনে, তুমি অত্যন্ত মন্দ কথা বলেছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও তওয়াফ করেছেন এবং মুসলিমরাও তওয়াফ করেছেন। মুশাল্লাল নামক স্থানে অবস্থিত মানাত মূর্তির নামের যে সকল কাফির ইহরাম বাঁধত, তারা সাফা ও মারওয়ার মধ্যে তওয়াফ করত না। তখন আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করেনঃ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا 'যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহর হজ্জ করে বা উমরা করে এতদুভয়ের তওয়াফ করায় কোন দোষ নেই' (২ঃ ১৫৮)। তুমি যা বলছ তা যদি হত তবে তিনি বলতেনঃ এতদুভয়ের তওয়াফ না করাতে কোন দোষ নেই। যুহরী (রহঃ) বলেনঃ আমি আবূ বকর ইবন আবদুর রহমান ইবন হারিছ ইবন হিশাম (রহঃ) এর কাছে এই কথাটির উল্লেখ করলাম। তিনি এতে খুবই আশ্চার্যাম্বিত হলেন। বললেনঃ এই হল ইলম। আমি বহু আলিমকে বলতে শুনেছি যে, যে সব আরব সাফা-মারওয়া-এর তওয়াফ করত না তারা বলত এ দুটো পাথরের মাঝে তওয়াফ করা হল জাহিলী যুগের বিষয়। আনসারদের একদল বলতঃ আমাদের তো বায়তুল্লাহ্ তওয়াফের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাফা ও মারওয়ার মাঝে তো তওয়াফের (সাঈর) নির্দেশ আমাদের দেওয়া হয় নি। তখন আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করলেনঃ إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ সাফা ও মারওয়া হল তো আল্লাহর বিশেষ নিদর্শনাবলীর অন্যতম (২ঃ ১৫৮)। আবূ বকর ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) বলেনঃ আমার মনে হয় এদের এবং ওদের উভয় দলের ব্যাপারেই আয়াতটি নাযিল হয়েছে।