তিরমিযী শরীফ - হাদীস নং ২,৯৭২
তিনি বলেন, আমরা রোম সাম্রাজ্যের এক শহরে ছিলাম। তখন রোমকদের এক বিরাট বাহিনী আমদের দিকে বের হয়ে আসে। মুসলিমদের দিক থেকেও সে ধরনের বা আরো বেশী সংখ্যক তাদের দিকে অগ্রসর হয়। শহরবাসীর শাসক ছিলেন উকবা ইবন আমির। যার বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন ফাযালা ইবন উবায়েদ। তখন মুসলিমদের মধ্যে থেকে এক ব্যক্তি রোমক বাহিনীর উপর প্রচন্ড আত্রমণ চালান। এমনকি তাদের ভিতরে ঢুকে পড়ল। তখন মুসলিমগণ চীৎকার করে উঠলেন এবং বললেনঃ সুবহানাল্লাহ! ঐ ব্যক্তি নিজ হাতে নিজকে ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করছে। এ সময় আবূ আয়্যূব আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়িয়ে বললেনঃ হে লোক সকল! তোমরা আয়াতটির এই ব্যাখ্যা করছ? অথচ এই আয়াতটি আমাদের আনসারী সম্প্রদায়ের বিষয়েই নাযিল হয়েছিল। আল্লাহ্ তা’আলা যখন ইসলামকে শক্তিশালী করলেন এবং এর সাহায্যকারীর সংখ্যা বেড়ে গেল। তখন আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে না শুনিয়ে চুপে চুপে পরস্পর বললামঃ আমাদের অর্থ-সম্পদ তো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আল্লাহ তা’আলা এখন ইসলামকেও শক্তিশালী করেছেন। এর সাহায্যকারীও হয়েছে অনেক। এখন যদি আমরা আমাদের সম্পদের রক্ষণাবেক্ষনে অবস্থান করি, তবে আমাদের যা নষ্ট হয়ে গেছে তা আমরা পরিপূরণ করতে সক্ষম হতাম। এর প্রেক্ষিতে আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর নবীর উপর এই আয়াত নাযিল করলেনঃ (وَأَنْفِقُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلاَ تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ) তোমরা আল্লাহ পথে ব্যয় করবে আর নিজেদেরকে ধ্বংসের মাঝে নিক্ষেপ করবে না (২ঃ ১৯৫)। এর দ্বারা আল্লাহ্ পাক আমাদের মতামত খন্ডন করে দিলেন। সুতরাং ধন-সম্পদ তত্ত্বাবধান, তাতে ব্যস্ত থাকা এবং জিহাদ পরিত্যাগ করাই হল ধ্বংস। এ কারণেই আবূ আয়্যূব আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু সব সময়ই বাড়ী ঘর ছেড়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে থাকতেন। অবশেষে রোম দেশেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তথায় তাঁকে দাফন করা হয়।