তিরমিযী শরীফ - হাদীস নং ৩,৪১৯
তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে যখন ব্যাকুল হয়ে উঠে দাঁড়াতেন তখন তাকে বলতে শুনেছিঃ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ رَحْمَةً مِنْ عِنْدِكَ تَهْدِي بِهَا قَلْبِي وَتَجْمَعُ بِهَا أَمْرِي وَتَلُمُّ بِهَا شَعَثِي وَتُصْلِحُ بِهَا غَائِبِي وَتَرْفَعُ بِهَا شَاهِدِي وَتُزَكِّي بِهَا عَمَلِي وَتُلْهِمُنِي بِهَا رَشَدِي وَتَرُدُّ بِهَا أُلْفَتِي وَتَعْصِمُنِي بِهَا مِنْ كُلِّ سُوءٍ اللَّهُمَّ أَعْطِنِي إِيمَانًا وَيَقِينًا لَيْسَ بَعْدَهُ كُفْرٌ وَرَحْمَةً أَنَالُ بِهَا شَرَفَ كَرَامَتِكَ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْفَوْزَ فِي الْعَطَاءِ وَيُرْوَى فِي الْقَضَاءِ وَنُزُلَ الشُّهَدَاءِ وَعَيْشَ السُّعَدَاءِ وَالنَّصْرَ عَلَى الأَعْدَاءِ اللَّهُمَّ إِنِّي أُنْزِلُ بِكَ حَاجَتِي وَإِنْ قَصَّرَ رَأْيِي وَضَعُفَ عَمَلِي افْتَقَرْتُ إِلَى رَحْمَتِكَ فَأَسْأَلُكَ يَا قَاضِيَ الأُمُورِ وَيَا شَافِيَ الصُّدُورِ كَمَا تُجِيرُ بَيْنَ الْبُحُورِ أَنْ تُجِيرَنِي مِنْ عَذَابِ السَّعِيرِ وَمِنْ دَعْوَةِ الثُّبُورِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْقُبُورِ اللَّهُمَّ مَا قَصَّرَ عَنْهُ رَأْيِي وَلَمْ تَبْلُغْهُ نِيَّتِي وَلَمْ تَبْلُغْهُ مَسْأَلَتِي مِنْ خَيْرٍ وَعَدْتَهُ أَحَدًا مِنْ خَلْقِكَ أَوْ خَيْرٍ أَنْتَ مُعْطِيهِ أَحَدًا مِنْ عِبَادِكَ فَإِنِّي أَرْغَبُ إِلَيْكَ فِيهِ وَأَسْأَلُكَهُ بِرَحْمَتِكَ رَبَّ الْعَالَمِينَ اللَّهُمَّ ذَا الْحَبْلِ الشَّدِيدِ وَالأَمْرِ الرَّشِيدِ أَسْأَلُكَ الأَمْنَ يَوْمَ الْوَعِيدِ وَالْجَنَّةَ يَوْمَ الْخُلُودِ مَعَ الْمُقَرَّبِينَ الشُّهُودِ الرُّكَّعِ السُّجُودِ الْمُوفِينَ بِالْعُهُودِ إِنَّكَ رَحِيمٌ وَدُودٌ وَأَنْتَ تَفْعَلُ مَا تُرِيدُ اللَّهُمَّ اجْعَلْنَا هَادِينَ مُهْتَدِينَ غَيْرَ ضَالِّينَ وَلاَ مُضِلِّينَ سِلْمًا لأَوْلِيَائِكَ وَعَدُوًّا لأَعْدَائِكَ نُحِبُّ بِحُبِّكَ مَنْ أَحَبَّكَ وَنُعَادِي بِعَدَاوَتِكَ مَنْ خَالَفَكَ اللَّهُمَّ هَذَا الدُّعَاءُ وَعَلَيْكَ الاِسْتِجَابَةُ وَهَذَا الْجَهْدُ وَعَلَيْكَ التُّكْلاَنُ اللَّهُمَّ اجْعَلْ لِي نُورًا فِي قَبْرِي وَنُورًا فِي قَلْبِي وَنُورًا مِنْ بَيْنِ يَدَىَّ وَنُورًا مِنْ خَلْفِي وَنُورًا عَنْ يَمِينِي وَنُورًا عَنْ شِمَالِي وَنُورًا مِنْ فَوْقِي وَنُورًا مِنْ تَحْتِي وَنُورًا فِي سَمْعِي وَنُورًا فِي بَصَرِي وَنُورًا فِي شَعْرِي وَنُورًا فِي بَشَرِي وَنُورًا فِي لَحْمِي وَنُورًا فِي دَمِي وَنُورًا فِي عِظَامِي اللَّهُمَّ أَعْظِمْ لِي نُورًا وَأَعْطِنِي نُورًا وَاجْعَلْ لِي نُورًا سُبْحَانَ الَّذِي تَعَطَّفَ الْعِزَّ وَقَالَ بِهِ سُبْحَانَ الَّذِي لَبِسَ الْمَجْدَ وَتَكَرَّمَ بِهِ سُبْحَانَ الَّذِي لاَ يَنْبَغِي التَّسْبِيحُ إِلاَّ لَهُ سُبْحَانَ ذِي الْفَضْلِ وَالنِّعَمِ سُبْحَانَ ذِي الْمَجْدِ وَالْكَرَمِ سُبْحَانَ ذِي الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ হে আল্লাহ! আমি যাঞ্চা করি তোমার কাছে তোমার পক্ষ থেকে রহমত যদ্বারা হেদায়ত করবে তুমি আমার হৃদয়কে, একত্রিত করবে আমার বিষয়াদি, সমম্বিত করে দিবে আমার সব বিক্ষিপ্ততা, ঠিক করে দিবে আমার দৃষ্টির আড়ালে যা আছে তা, সমুচ্চ করে দিবে আমার সমক্ষে যা আছে তা, সংশোধন করে দিবে আমার আমল ইলহাম করবে আমার হেদায়াত, ফিরিয়ে দিবে আমার সব প্রিয় বস্ত আর হেফাজত করবে আমাকে সব ধরণের অনিষ্টিতা থেকে। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে দাও ঈমান, দাও প্রত্যয় যার পর কুফরীর কোন স্পর্শও থাকবে না আর। দাও তুমি রহমত যাদ্বারা পাই আমি দুনিয়া ও আখিরাতে তোমার প্রদত্ত সন্মানের সুউচ্চ আসন। হে আল্লাহ! তোমার কাছে প্রার্থনা করি ফয়সালায় সফলকামিতা, শহীদগণের মানযিল, সৌভাগ্যশীলদের জীবন, শত্রুদের উপর সাহায্য। হে আল্লাহ! আমার সব হাজত নিয়ে নামছি তোমারই দরবারে যদিও ত্রুটিময় আমার প্রয়াস, ক্ষীণ আমার আমল। তোমার রহমত ও দয়ারই মুখাপেক্ষী আমি। তাই চাই তোমার কাছে হে সকল বিষয়ের সম্পাদনকারী। হে হৃদয়ের শেফাদানকারী! যেমন সমুদ্রের মাঝে পরস্পর আড়াল সৃষ্টি করে রেখেছ তুমি, তেমনি তুমি আমায় আশ্রয় দাও জাহান্নামের আযাব থেকে, ধ্বংসকে আহবান জানানোর মত পরিণাম থেকে কবরের ফিতনা থেকে। হে আল্লাহ! আমার প্রয়াস ও সাধনার যে ত্রুটি, আমার নিয়্যাত তো ইখলাসের সে স্তরে পারেনি পৌছাতে আমার প্রার্থনাও তো পারেনি সে স্তরে পৌছতে তবুও দাও তুমি সব কল্যাণ যার ওয়াদা করেছ তুমি তোমার কোন সৃষ্টির সাথে -বা সে কল্যাণ যা দিয়েছো তোমার বান্দাদের কাউকে। আমি এ বিষয় তোমারই সাতিশয় আগ্রহী। হে রাব্বুল আলামীন! তোমার রহমতের ওয়াসীলায়ই চাই তোমার কাছে। হে আল্লাহ! সুদৃঢ় রজ্জুর অধিকারী যিনি, সঠিক বিধানের মালিক যিনি, তোমার কাছে চাই প্রতিশ্রুত দিনের ভয়াবহ হুমকি থেকে, নিরাপত্তা চাই অনন্ত দিনের জান্নাত তাদের সাথে, যারা নৈকট্যের অধিকারী তোমার দরবারে; যারা সব সময় সমুপস্থিত, বেশি রূকু ও সিজদাবনত এবং চুক্তি পূরণকারী যারা। তুমিই তো দয়ালু প্রেমময়। তুমিই কর যা তোমার অভিপ্রায় তাই। হে আল্লাহ! তুমি বানাও আমাদের হেদায়াতকারি ও হেদাযাতপ্রপ্ত, যারা পথভ্রষ্টও নয় এবং পথ ভ্রষ্টকারীও নয় তোমার ওলীদের সঙ্গে আপসকারী ও তোমার দুশমনদের প্রতি শত্রুতা পোষণকারীরূপে। তোমারি ভালবাসায় আমরা ভালবাসি তাদের যারা ভালবাসে তোমাকে। তোমার শত্রুতার কারণেই আমরা শত্রুতা পোষন করি তাদের প্রতি যারা তোমার বিরুদ্ধাচরণ করে। হে আল্লাহ! এ তো প্রার্থনা তোমার দরবারে আর তোমার বিষয় হল তা কবুল করা। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে নূর দাও, আমার হৃদয়ে নূর দাও, আমার কবরে নূর দাও, আমার সামনে নূর দও, আমার পিছনে নূর দাও, আমার ডানে নূর দাও, বামে নূর দাও, আমার উপরে নূর দাও, আমার নীচে নূর দাও, আমার কানে নূর দাও, আমার চোখে নূর দাও, আমার লোমে লোমে নূর দাও, আমার চামড়ায় নূর দাও আমার গোশতে নূর দাও, আমার রক্তে নূর দাও, নূর দাও আমার সব হাড়ে। হে আল্লাহ! আমার নূর করে দাও সুমহান, দাও আমার নূর। আমার জন্য দাও নূর। পবিত্র তিনি যিনি বেষ্টন করেছেন ইযাযতের চাদর আর নিজের জন্য খাস করে নিয়েছেন তা। মহাপবিত্র তিনি যিনি মর্যদার পোশাক করেছেন পরিধান এবং তদ্বারা অনুগ্রহিত করেছেন বান্দাদের। পবিত্র তিনি যিনি ছাড়া আর কারো জন্য সব দোষ-ক্রুটি পবিত্রতা নয় শোভন। পবিত্র তিনি আনুগ্রহ নিয়ামতের আধকারী যিনি। পবিত্র তিনি সম্মান ও দয়ার অধিকারী যিনি। পবিত্র তিনি প্রতিপত্তি ও মর্যদার আধিকারী যিনি। হাদীসটি গারীব। এ সূত্র ছাড়া ইবন আবু লায়লা এর রিওয়ায়াত হিসাবে এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নাই। শু’বা ও সাফওয়ান ছাওরী (রহঃ) সালমা ইবন কুহায়ব-ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই হাদীসটির কিছু বর্ণনা করেছেন। তবে এত দীর্ঘ করে শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেন নি।